দুপুর গড়ানোর আগেই সিলেট শহরের পথে পথে দেখা যায় স্টেডিয়ামমুখী মানুষের ভিড়। নিজেদের মাঠে সিলেট টাইটান্সের শেষ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ আবার শক্তিশালী রংপুর রাইডার্স, এমন দিনে স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই ছিল তুঙ্গে। পুরোপুরি ভরা গ্যালারি না হলেও মাঠজুড়ে ছিল সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসের রং আরও গাঢ় করে দিয়ে এবারের বিপিএলে নিজেদের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্সটাই উপহার দিল সিলেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার পেস ও স্পিনের নিখুঁত সমন্বয়ে রংপুরকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা। এরপর ব্যাট হাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে ১৭.৩ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। ৬ উইকেটের এই জয়ে ঘরের মাঠে এবারের বিপিএল অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ দেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
টস জিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সিলেটের বোলাররা। প্রথম ওভারেই মেডেন নিয়ে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন মইন আলি। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা তাওহিদ হৃদয়কে পুরোপুরি আটকে রাখা হয়। পরের ওভারেই নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে শূন্য রানে ফেরেন কাইল মেয়ার্স। খুব দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন হৃদয়ও। টুর্নামেন্টে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই শহিদুল ইসলাম তৃতীয় বলেই উইকেট তুলে নিয়ে চমক দেখান।
লিটন দাসের ব্যাটে কিছুটা আগ্রাসনের আভাস মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শহিদুলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি ২২ রান করে। পুরো আসরজুড়ে ছন্দ খুঁজে না পাওয়া লিটনের হতাশা যেন এই ম্যাচেও কাটেনি। মাঝখানে ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে মইন আলির ক্যারম বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ইফতিখার আউট হন, আর পরের ওভারেই দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন খুশদিল। তার ৩০ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত রংপুরের সর্বোচ্চ হয়ে থাকে।
এরপর ব্যাটিং ধস নামে রংপুর শিবিরে। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ব্যর্থ হন, নাঈম হাসান বাজে শটে বোল্ড হন নাসুমের বলে। ৯৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহ কিছুটা লড়াই করেন। ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংসে দলকে ১১৪ পর্যন্ত টেনে নিলেও সেটি প্রতিযোগিতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
নাসুম আহমেদ ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, আর শহিদুল ইসলাম টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচেই নেন তিনটি উইকেট। মইন আলির চার ওভারে এক মেডেনসহ ৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন দেখায় সিলেট। তৌফিক খান তুষার ও পারভেজ হোসেন ইমনের উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের ভিত্তি গড়ে যায়। তৌফিক ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই সিলেটের হাতে। এরপর আরিফুল হক ধীরগতির হলেও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে নাহিদ রানা টানা দুই বলে আফিফ হোসেন ও ইথান ব্রুকসকে ফিরিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করলেও তাতে ফলের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পারভেজ হোসেন ইমন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৪১ বলে ৫২ রানের ইনিংসে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ব্যাটিং। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ইফতিখারের ওপর মারা ছক্কায় পূর্ণ হয় তার ফিফটি, একই সঙ্গে নিশ্চিত হয় সিলেটের পঞ্চম জয়।
ম্যাচ শেষে পুরো মাঠ ঘুরে দর্শকদের সঙ্গে জয় উদযাপন করে সিলেট দল। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে এমন একটি পারফরম্যান্স যেন সমর্থকদের জন্যও ছিল উপহার। এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সিলেট উঠে আসে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। লিগ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ১৫ জানুয়ারি ঢাকায়, প্রতিপক্ষ রাজশাহী।









Discussion about this post