ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলামকে। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার অপেক্ষা বাড়লেও প্রথম দিন শেষে ৭৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
সাদমানের সঙ্গে অপরাজিত আছেন লিটন কুমার দাস। তিনি ২৮ বলে ১০ রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান দুটি এবং জেডন সিলস একটি উইকেট নিয়েছেন।
আজ দিনের শুরুতেই দুঃসংবাদ পায় বাংলাদেশ। আগের দিন অনুশীলনে পাওয়া চোটের কারণে একাদশ থেকে ছিটকে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তার পরিবর্তে দলে সুযোগ পান তাওহীদ হৃদয়। প্রায় দুই বছর পর মুশফিককে ছাড়াই টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের সপ্তম ওভারে জেডন সিলসের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক মিলে দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৯ রানের জুটি। তবে ২৮ রান করে ওয়ারিকানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল।
প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। সাদমানের সঙ্গে ক্রিজে থেকে মধ্যাহ্নবিরতি পার করেন শান্ত। বিরতির পর নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাদমান। অন্যদিকে, ওয়ারিকানের বলে প্যাডল সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন শান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেয় সফরকারীরা। ৪২ বলে ১৯ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
১১০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ৮৮ রানের জুটি। সাদমান একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন। অন্যদিকে, মুশফিকের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পাওয়া হৃদয়ও ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সামনে ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারের আরেকটি অর্ধশতকের সম্ভাবনা।
তবে চা বিরতির পর আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। রস্টন চেইসের বলে স্কয়ার কাট করে সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করার সময় বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন হৃদয়। প্রাথমিক শুশ্রূষা দেওয়ার পরও উঠে দাঁড়াতে না পারায় তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন এই ব্যাটার। পরে ড্রেসিংরুমে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
হৃদয় মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তাকে সঙ্গে নিয়ে সাদমান দলের রান বাড়াতে থাকেন। ৭০ ওভার শেষে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন সাদমানের সংগ্রহ ছিল ৯৬ রান। প্রায় ৫৩ মিনিট বন্ধ থাকার পর খেলা আবার শুরু হলে শতকের আরও কাছে পৌঁছে যান তিনি। যোগ করেন আরও তিন রান, দাঁড়ান ৯৯-এ।
কিন্তু প্রকৃতি আর সায় দেয়নি। আবারও আলো কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পরে আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি দুই দলের। ফলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেকেই প্রথম দিনের খেলা শেষ করতে হয় ৩১ বছর বয়সী সাদমানকে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। পরদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করে বিরল কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এবার মিরপুরে সাদমানও একই রকম পরিস্থিতিতে পড়লেন। তবে তাঁর শতকের অপেক্ষার অবসান হবে কি না, তা জানা যাবে দ্বিতীয় দিনের খেলায়।



