দীর্ঘ সময় ধরে নীরব থাকা একটি সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনলেন শফিউল ইসলাম। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। ২০২০ সালের পর আর জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন শফিউল। তবে বয়স, ইনজুরি এবং বাস্তবতা-সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন তিনি।
মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০২০ সালের মার্চে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল শফিউলের শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। এরপর জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি তার। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে সর্বশেষ দেখা গেছে গত বছরের মার্চে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। ছয় বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও হাল ছাড়েননি তিনি। কিন্তু ৩৬ বছরে এসে নিজের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায়, আর এগোনোর সময় এসেছে।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় শফিউল ইসলাম লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল।’
পরবর্তী দীর্ঘ পোস্টে কৃতজ্ঞতা আর বিদায়ের অনুভূতি আরও স্পষ্ট করে তোলেন তিনি। শফিউল লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আজ থেকে সকল ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং অগণিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা আর দোয়া ছাড়া আজকের শফিউল হওয়া সম্ভব ছিল না।’
বিদায়ের বার্তায় নতুন জীবনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শফিউল আরও লেখেন, ‘ক্রিকেট মাঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ যদি আমার ব্যবহারে মনোক্ষুণ্ণ হন, তবে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি। সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলাম ও ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকব। সবাইকে ধন্যবাদ।’
২০০৭ সালের মার্চে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু শফিউলের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১০ সালে। বাংলাদেশের জার্সিতে তিনি খেলেছেন ১১টি টেস্ট, যেখানে নিয়েছেন ১৭ উইকেট। ওয়ানডেতে ৬০ ম্যাচে তার ঝুলিতে ৭০ উইকেট, আর ২০টি টি-টোয়েন্টিতে শিকার ২০ উইকেট। সব মিলিয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১০৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করলেন এই পেসার।
২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় সেই ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শফিউল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ২৪ বলে অপরাজিত ২৪ রান করে দলকে জয় এনে দেওয়ার সেই মুহূর্ত আজও বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বিপিএলেও মাঠে নামেননি শফিউল ইসলাম। নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে সুযোগ পাননি তিনি।










Discussion about this post