শেষ দিকের ঝড়ো ব্যাটিং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সমন্বয়ে ঢাকার বিপক্ষে আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে সিলেট টাইটান্স। ঘরের মাঠে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে তোলে তারা। জবাবে ঢাকা ক্যাপিটালস ১৬০ রানের বেশি করতে না পারায় ২০ রানের জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
এই জয়ে আট ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
সিলেটের ইনিংসের শুরুটা ছিল গোছানো ও আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার ইমন ও তৌফিক খান পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান যোগ করেন। ১৭ রান করা তৌফিক বিদায় নিলে প্রথম ধাক্কা আসে। কিছুক্ষণ পর ইমনও ফেরেন ২৪ বলে ৩২ রান করে। এরপর দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেন আরিফুল ইসলাম। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই পরিণত ব্যাটিং উপহার দেন তিনি। ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন এই তরুণ ব্যাটার।
মাঝের ওভারগুলোতে রান কিছুটা কমে গেলেও শেষ ভাগে দৃশ্যপট বদলে দেন মঈন আলী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ১৮ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৩৫, হাতে তখনো পর্যাপ্ত উইকেট। সেই সময় ঢাকার অধিনায়ক মিঠুন স্পিনার নাসির হোসেনকে আক্রমণে আনেন, যা পরে ম্যাচের বড় ভুল হিসেবে ধরা পড়ে। মঈন আলী একাই সেই ওভারে ২৮ রান তুলে নেন, যা এবারের বিপিএলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার। পরের ওভারে আসে আরও ১৭ রান। আজমতউল্লাহ ২৩ বলে ৩৩, মঈন ৮ বলে ২৮ রান করে সিলেটকে পৌঁছে দেন ১৮০ রানে। শেষদিকে ইথান ব্রুকস ও মিরাজের ছোট কিন্তু কার্যকর অবদান স্কোরকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকাও শুরুটা করে দারুণভাবে। আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে দ্রুত ৫৬ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ১১ বলে ২৪ রান করা মামুন ফিরলে জুটি ভাঙে। গুরবাজ এক প্রান্ত ধরে রেখে করেন ৫১ রান। তবে তিনে নেমে নাসির হোসেন, এরপর শামিম হোসেন ব্যর্থ হওয়ায় চাপ বাড়তে থাকে ঢাকার ওপর।
মাঝের দিকে সাইফ হাসান ও সাব্বির রহমান কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও প্রয়োজনীয় রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকাকে চাপে রাখেন সিলেটের বোলাররা। সালমান ইরশাদ ৩ উইকেট শিকার করে ঢাকার আশা ভেঙে দেন, সঙ্গে মঈন আলী নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানেই থামে ঢাকার ইনিংস।
ব্যাটে ঝড়ো ইনিংস ও বলে কার্যকর অবদানের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে মঈন আলীর হাতে।










Discussion about this post