রোববার সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় হঠাৎ করে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে-বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেশ ছেড়েছেন। গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। দেশের ক্রিকেট এমনিতেই যখন অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই গুঞ্জন দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। রাতভর সামাজিক মাধ্যম, ক্রিকেটাঙ্গন এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে সেই খবর ঘুরতে থাকে।
রাতের সঙ্গে সঙ্গে গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়। এমন কথাও শোনা যায়, রিটার্ন টিকিট না কেটেই নাকি দেশ ছেড়েছেন বিসিবি সভাপতি। বিসিবির একাধিক পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না, যা সন্দেহকে আরও জোরালো করে তোলে। দেশের ক্রিকেট যখন বিশ্বকাপ ইস্যু, বোর্ড পরিচালকদের পদত্যাগ এবং ফিক্সিং অভিযোগে টালমাটাল, তখন বিসিবি সভাপতির দেশত্যাগের খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ায়।
সোমবার সকালে সেই গুঞ্জনের বাস্তব পরীক্ষা হয়। সকাল এগারোটার দিকে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবিতে দেখা যায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে।
মাঠের চারপাশে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। পরে রুটিন অফিসিয়াল কাজেও যোগ দেন তিনি। রাতভর যে খবর ছড়িয়েছিল, তার সঙ্গে সকালের চিত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
গুঞ্জনে বিরক্ত প্রতিক্রিয়া জানান বিসিবি সভাপতি নিজেই। গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “আমার লোকেশন জানানো কি সত্যিই জরুরি? ডু আই ওয়ার্ক অ্যাট দা বিসিবি? আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকের কেন এত আগ্রহ?”
বিসিবি মিডিয়া ব্লক থেকে মূল কার্যালয়ে যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কি মনে হচ্ছে, আমি কি দেশের বাইরে?”
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাস করছেন। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার সেখানে গেছেন এবং অনলাইনে অফিসও করেছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দেশের ক্রিকেট যখন একসঙ্গে একাধিক সংকটে জর্জরিত, তখন তার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়।
পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। আইসিসি সেই দাবি না মেনে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলা হচ্ছে না। একই সময়ে বিসিবির ভেতরেও চলছে অস্থিরতা। এক পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে, তিনি অডিট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আরেক পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক পদত্যাগ করেছেন। আরও দুজন পরিচালক পদত্যাগ করতে পারেন-এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
এই পটভূমিতেই বুলবুলের দেশত্যাগের খবর দ্রুত বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। কিন্তু সোমবার সকালে বিসিবিতে তার উপস্থিতি সেই সব জল্পনার ইতি টানে। সকাল ১১টার দিকে তিনি যোগ দেন বিসিবির দুই দিনব্যাপী ম্যাচ রেফারি ট্রেনিং প্রোগ্রামে। ‘আম্পায়ার্স এডুকেশন’ শীর্ষক এই কর্মসূচি পরিচালনা করছেন কিংবদন্তি আম্পায়ার সাইমন টাওফেল। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি টাওফেলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবিও তোলেন তিনি।








Discussion about this post