বাংলাদেশজুড়ে ক্রিকেট মাঠের মান উন্নয়নে বড় পরিসরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে সেন্টার উইকেট ও অনুশীলন উইকেট মিলিয়ে মোট ১৩৭টি নতুন উইকেট তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিরপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট-এই তিন টেস্ট ভেন্যুর পাশাপাশি খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, কক্সবাজার, বিকেএসপি ও পূর্বাচলের মাঠগুলোতে সেন্টার উইকেট বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে মাঠের আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে অনুশীলন উইকেট নির্মাণ করা হবে। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কিউরেটররাই এসব উইকেট তৈরির কাজ করবেন। বিসিবির লক্ষ্য, আগামী জুনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৩৭টি উইকেট নির্মাণ সম্পন্ন করা।
খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, ফতুল্লা, কক্সবাজার, পূর্বাচল ও বিকেএসপিসহ আটটি স্টেডিয়ামে খেলার উপযোগী উইকেট ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়। কিউরেটরদের ভূমিকা নিয়ে খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আমি সব কিউরেটরদের সাথে আলাপ করেছি। বগুড়া, রাজশাহী, বরিশাল সবাই সবার জায়গা থেকে বলেছে নিজেরা নিজেদের কাজগুলো করলে এবং আমরা সেন্ট্রালি সাপোর্ট দেবো যা যা লাগে। বাকি বানানোর কাজ তাদের।’
উইকেট নির্মাণে সময় বেশি লাগবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে পাইলট বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন উইকেট বানাতে বেশি সময় লাগে না। এক একটা জায়গায় যদি ৮ বা ১২টা করে উইকেট বানাই, ৮/১০ দিনের বেশি লাগবে না। আমরা একটা গাইডলাইন দিয়েছি প্রত্যেককে।’ তবে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় কত হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক ও হাই পারফরম্যান্স কমিটির প্রধান আব্দুর রাজ্জাক এবং গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেন। প্রেজেন্টেশন ও দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্ব নির্বিঘ্নে চললেও শেষ দিকে এসে পুরো পরিবেশ বদলে যায়।
সম্প্রতি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উল্লেখ্য, গত শনিবার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ম্যাচের দিন, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন, বিসিবির আমন্ত্রণমূলক অনুষ্ঠান ও নির্দিষ্ট অনুশীলন ছাড়া সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিসিবি। এ নিয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন প্রতিবাদপত্র পাঠালেও বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, “আজকে ছিল আমার প্রেজেন্টেশন নিয়ে, আপনাদের নিয়ে সমন্বয়ে একটা কাজ করা…আমার মনে হয় আমি বোঝাতে পেরেছি, আমি জানি না, আপনাদের সবার খুশি হওয়া উচিত।” এরপর বিসিবি সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা এত সুন্দরভাবে এত কথা বলেছি… আমার মনে হয়, প্রশ্নটা আপনি এমনভাবে করছেন, আপনার ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য-।”
এই পর্যায়ে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছাড়তে উদ্যত হন। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি যাচ্ছেন কেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “পরিচালক হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে বলছি, আপনার প্রশ্ন করাটা আমার পছন্দ হয়নি বলে চলে যাচ্ছি…।” যদিও তিনি তখনই কক্ষ ত্যাগ করেননি। তর্কাতর্কি আরও তীব্র হয় এবং একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, একজন-দুজন মানুষ পরিবেশ নষ্ট করে দিলেন থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।”










Discussion about this post