জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দোলাচল চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা জোরালো হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছিল, আসন্ন পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই আবার বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যেতে পারে তাকে। তবে সেই সম্ভাবনা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে সাকিবকে দেখা যাচ্ছে না, ফলে তার এবং ভক্তদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
নির্বাচকদের পক্ষ থেকে যে স্কোয়াড জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে নেই বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের নাম। জানা গেছে, দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন না করেই হঠাৎ তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই বিবেচনায় নির্বাচকরা তাকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। পাশাপাশি বোর্ডের পক্ষ থেকেও সাকিবকে দলে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত না আসায় শেষ পর্যন্ত সাকিববিহীন স্কোয়াডই জমা দিতে হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাকিবকে আবার জাতীয় দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। বোর্ডের ইচ্ছা ছিল, পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই তার প্রত্যাবর্তন ঘটানো। তবে আইনি জটিলতা এবং প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে আসায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশে আসেননি সাকিব। এর আগে তিনি মাগুরা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি এখনো দেশে ফেরেননি।
সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর জন্য বিসিবি আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে। তার আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করে তা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারও ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবকে জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহী। তবে শর্ত হিসেবে তাকে আগে আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে হবে।
দেশে ফিরতে পারলে বিসিবির ফিজিও ও ট্রেনারদের তত্ত্বাবধানে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন সাকিব। প্রায় দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকায় নির্বাচক কমিটি তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটেও পর্যবেক্ষণ করতে চায়, যাতে তার পারফরম্যান্স ও ম্যাচ প্রস্তুতি যাচাই করা যায়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিসিবির পরিচালক আসিফ জানান, সাকিবের মামলার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে এবং তা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিসিবি ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিষয়টি দেখছে এবং বোর্ডের লিগ্যাল টিমও যুক্ত আছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনি জটিলতার সমাধান হলে দ্রুতই বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবার সাকিবকে দেখা যাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে চলতি মাসেই। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।










Discussion about this post