বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) দ্বারস্থ হয়েছেন। তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাবের সংগঠক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) দ্বারস্থ হয়েছেন। রোববার তারা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে বিসিবির বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ক্লাব সংগঠকদের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল না। কাউন্সিলর মনোনয়ন, ক্লাব প্রতিনিধিত্ব এবং ডাকযোগে ভোটগ্রহণসহ নানা বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এ কারণে নির্বাচনের আগেই ঢাকার ১৬টি ক্লাব নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে।
এনএসসিতে গিয়ে তামিম ইকবাল জানান, ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে অন্তত ৫০টি ক্লাব বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। তিনি এবং অন্যান্য ক্লাব সংগঠকরা মনে করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না হওয়ায় বর্তমান বোর্ডকে বৈধ বলা যায় না।
নির্বাচন বয়কটের প্রভাব পড়েছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও। কয়েকটি ক্লাব ঘরোয়া লিগ বর্জনের ঘোষণা দেয়, যার ফলে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ২০ দলের এই লিগে আটটি ক্লাব অংশ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১২ দল নিয়ে লিগ আয়োজন করতে হয়। অন্য কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
নির্বাচনের পর নতুন বোর্ডের অধীনে বিপিএলসহ কয়েকটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও ক্লাব ক্রিকেটের অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। ঢাকার প্রায় ৪৫টি ক্লাব বর্তমান বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন ঘরোয়া প্রতিযোগিতা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল, যা দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।
নির্বাচনের আগে তামিম ইকবাল নিজেও বিসিবির পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল একটি আধুনিক এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, স্কুল ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বোর্ডের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাব সংগঠকরাও মনে করছেন, নতুন সরকারের অধীনে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তদন্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান বিসিবি বোর্ডের সভাপতি সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বোর্ডে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে এবং দীর্ঘদিনের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ কয়েকজন পরিচালক পদ হারান। পরে স্বল্প সময়ের জন্য ফারুক আহমেদ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন বুলবুল।
তবে সেই নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। ক্লাব সংগঠকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলাও হয়েছিল, যা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।










Discussion about this post