মেঘে ঢাকা সিলেটের আকাশ আর ভারী বাতাসের মতোই ভারী ছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটিং। দুপুর গড়াতেই ফ্লাডলাইটের আলোয় মাঠে নামা ম্যাচে আলো ছড়ানোর কথা ছিল দুই দলের ব্যাটসম্যানদের। বাস্তবে আলো ছড়ালেন একজনই-সিলেট টাইটান্সের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তার ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে এবারের বিপিএলে প্রথম দল হিসেবে একশর নিচে অলআউট হলো নোয়াখালী।
চলতি বিপিএলে টানা তিন ম্যাচে হারের পর বিরতি পেয়েছিল নোয়াখালী। সেই বিরতির পর একাদশে আনা হয় চারটি পরিবর্তন। দলে ফেরেন সৌম্য সরকার, আইএল টি–টোয়েন্টি খেলে যোগ দেন মোহাম্মাদ নাবি, সুযোগ দেওয়া হয় মুনিম শাহরিয়ারকে। কিন্তু নামের ভারে কাগজে দল ভারী হলেও মাঠে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ব্যাটিং ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নোয়াখালী, যা ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভুল প্রমাণিত হতে থাকে। শুরুতে তিন ওভারে ১৮ রান তুলে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। মোহাম্মাদ আমিরের এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান হাবিবুর রহমান সোহান। তবে নাসুম আহমেদ বোলিংয়ে আসতেই সব কিছু উল্টে যায়।
প্রথম বলেই সুইপ করতে গিয়ে সৌম্য সরকার বিদায় নেন। স্কয়ার লেগে ইথান ব্রুকসের দুর্দান্ত ক্যাচ যেন নোয়াখালীর ধসের সূচনা করে। মুনিম শাহরিয়ার এক ঝলক দেখিয়েই আত্মঘাতী রানে রানআউট হন। পরের ওভারে সৈয়দ খালেদ আহমেদের শর্ট বলে সোহান ফিরে গেলে নোয়াখালীর ব্যাটিং পুরোপুরি ছন্দ হারায়।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। নাবিকে ফেরান আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, অধিনায়ক হায়দার আলিকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম। লোয়ার অর্ডারে নেমে কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। সাত নম্বরে নামা হাসান মাহমুদ মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শূন্য রানে ফেরেন। শেষ পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলিয়ে আসে মাত্র এক রান। চার বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে নাসুম পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট।
চার ওভারে মাত্র সাত রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়া নাসুমের এই স্পেল এবারের বিপিএলের সেরা বোলিং ফিগার। একই সঙ্গে বিপিএলের ইতিহাসে স্পিনারদের মধ্যে এটি সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশের কোনো বোলারের সবচেয়ে কম রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। ৬১ রানে অলআউট হওয়া নোয়াখালী বিপিএলের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটান্স শুরুতেই পারভেজ হোসেন ইমনকে হারালেও ম্যাচে কোনো চাপ তৈরি হয়নি। তৌফিক খান তুষার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে দেন। দীর্ঘ সময় পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে ১৮ বলে ৩২ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল সাতটি চার। মাঝপথে আফিফ হোসেন ও জাকির হাসান উইকেট হারালেও জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি। ৮.৪ ওভারেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সিলেট।
এই জয়ে ছয় ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের জয় দাঁড়াল তিনে। আর ম্যাচজুড়ে একক আধিপত্য দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠল নাসুম আহমেদের হাতেই।










Discussion about this post