সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের একতরফা উৎসবে। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিপিএলের প্লে–অফ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও দখলে নেয় রাজশাহী। ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এই জয়ের ফলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে উঠে গেছে। চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটানস সমান ১০ পয়েন্ট পেলেও নেট রান রেটের পার্থক্যে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্লে–অফের শেষ একটি জায়গার জন্য এখনো লড়াইয়ে আছে রংপুর রাইডার্স, আর ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস কার্যত পিছিয়ে পড়েছে।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া ঢাকার সিদ্ধান্তকে প্রথম দিকে সঠিক বলেই মনে হচ্ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান তুলে পাওয়ার প্লে শেষ করে তারা। কিন্তু সপ্তম ওভারে আব্দুল গাফফা সাকলাইনের স্পেলে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে। টানা দুই বলে উইকেট হারানোর পর ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ একে একে ভেঙে পড়ে। উসমানের ৪১ রানের পর আর কেউই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। শেষ ওভারে রিপন মণ্ডলের হ্যাটট্রিকে ঢাকার ইনিংস থামে ১৩১ রানে।
রাজশাহীর বোলিং আক্রমণে সেদিন আলাদা করে চোখে পড়েছেন আব্দুল গাফফা সাকলাইন ও রিপন মণ্ডল। সাকলাইন চার উইকেট নিয়ে ঢাকার মিডল অর্ডার ভেঙে দেন, আর রিপন শেষদিকে হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে ইনিংসে চূড়ান্ত আঘাত হানেন। সহায়তা করেন মোহাম্মদ রুবেল ও বিনুরা ফার্নান্দো।
লক্ষ্য তাড়ায় রাজশাহীর ব্যাটিং শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি নেয়নি। ওপেনিং জুটিতে আসে ৩৮ রান। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও তাতে কোনো প্রভাব পড়েনি ম্যাচের গতিতে। কারণ এরপরই দায়িত্ব নেন তানজিদ হাসান তামিম। ঢাকার বোলারদের ওপর নিঃসংকোচে চড়াও হয়ে তিনি ম্যাচের রং বদলে দেন। ৪৩ বলে ৭৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে রাজশাহীর জয় কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন তানজিদ।
তানজিদের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিম ও জিমি নিশাম কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।










Discussion about this post