বিপিএলের দ্বাদশ আসরের শিরোপা জয়ের পর সোমবার রাজশাহী শহরজুড়ে দেখা যায় উচ্ছ্বাস আর উৎসবের আমেজ। চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে সংবর্ধনা জানাতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছাদখোলা বাসে করে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন দলের ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমসহ খেলোয়াড়দের দেখতে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় করেন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর হজরত শাহমখদুম (র.) বিমানবন্দরে পৌঁছায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বহর। সেখানেই অপেক্ষমাণ ছাদখোলা বাসে বিপিএল ট্রফিসহ ওঠেন ক্রিকেটাররা। পুলিশ স্কটে বাসটি বিমানবন্দর থেকে শহরের দিকে যাত্রা শুরু করে। বাসের সামনে ছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মালিক নাবিল গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাস ঘিরে রাখেন মোটরসাইকেল আরোহী অসংখ্য সমর্থক। তাদের হাতে দেখা যায় ‘গর্বের জয়’, ‘বীরের শহর’, ‘জয় এসেছে কাপ উঠেছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড। ছাদখোলা বাসের সামনে লেখা ছিল, ‘কাপ আইসিছে বাড়িতে’।
বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক ধরে বাসটি আমচত্বর, বিমান চত্বর ও রুয়েট ফ্লাইওভার অতিক্রম করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে পৌঁছায়। সেখানে শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নেন। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পরনের শার্ট, টি-শার্ট কিংবা সোয়েটার খুলে ক্রিকেটারদের দিকে ছুড়ে দেন। ক্রিকেটাররা তাতে অটোগ্রাফ দিয়ে আবার ফিরিয়ে দেন। এ সময় অধিনায়ক শান্ত ও মুশফিকুর রহিম বারবার বিপিএল ট্রফি উঁচু করে ধরলে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। আনন্দে বাসের ওপরেই নাচতে দেখা যায় দুই ক্রিকেটারকে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়ার পর ছাদখোলা বাসটি তালাইমারী ও সাহেববাজার হয়ে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সামনে যায়। সেখানেও শিক্ষার্থীরা বাস ঘিরে ধরে সংবর্ধনা জানান। রাজশাহী কলেজের সামনেও একই দৃশ্য দেখা যায়। পরে বাসটি লক্ষ্মীপুর এলাকা ঘুরে দড়িখড়বোনা, রেলগেট ও আমচত্বর হয়ে পবায় নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গিয়ে রোড-শো শেষ করে।
ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণের পুরো সময়জুড়েই পথে পথে মানুষ হাত নেড়ে, করতালি দিয়ে এবং স্লোগান তুলে ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানান। অনেকে দূর থেকেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেলফি তুলে মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখেন। ট্রফি হাতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ক্রিকেটাররা যেখানেই গেছেন, সেখানেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন তারা।
রোড-শো শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজশাহী ও বগুড়ায় বিপিএল ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানান দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রাজশাহী ও বগুড়া; দুই মাঠেই বিপিএল হওয়া উচিত। বিপিএল আয়োজনের জন্য যে যে প্রস্তুতি দরকার, আশা করি বিসিবি সেগুলো দেখবে। হাতে এখনও এক বছর সময় আছে। রাজশাহী ও বগুড়ায় খেলা হলে দর্শকসংখ্যা আরও বেশি হবে।’
সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত মুশফিক মনে করেন, এই ট্রফি রাজশাহীবাসীরই প্রাপ্য ছিল।









Discussion about this post