টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব ক্রিকেট। বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহারের পর এবার পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে এমন সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি দেখছেন না পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম।
গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। ওই দিনই এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মেনে আইসিসি অন্যায় করেছে। এমনকি সরকারের নির্দেশ পেলে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বয়কটের আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন ওয়াসিম আকরাম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বোলিং কিংবদন্তি বলেন, ‘পাকিস্তান কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবছে? বাংলাদেশ খেলতে চাচ্ছে না বলে! পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করেছে কী? এটার কোনো মানে দেখি না।’
বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই পাকিস্তান সালমান আলী আগাকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। তবে পাকিস্তান আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি জানান, বিশ্বকাপ ইস্যুতে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ওয়াসিম আকরামের মতে, বিশ্বকাপ বয়কট করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বে পাকিস্তানই। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নিজেদের কথা ভাবা উচিত। ক্রিকেটারদের প্রতি আমার পরামর্শ খেলায় মনোযোগী হও ও বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করো।’
এদিকে বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশ ‘অপরাজনীতির’ শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যাও কমে যাবে বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান মিলিয়ে ১৭ কোটি ৮০ লাখ দর্শক খেলা দেখবেন। সেখানে বাংলাদেশের এই সংখ্যাটা ১৭ কোটি ৬০ লাখ।’
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর অনুরোধ করেছিল বিসিবি। তবে আইসিসি সেই দাবি মানেনি। ইউসুফের মতে, এতে আইসিসি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল, সেটাকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। যখন ক্রিকেটের প্রশাসন ব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়, তখন আর স্বচ্ছতা থাকে না। প্রভাব খাটিয়ে ক্রিকেট চালানো যায় না। নীতির ওপর চলবে ক্রিকেট।’
বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি উপেক্ষা করায় আইসিসির সমালোচনা করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিও। একই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের কোচ জেসন গিলেস্পি, যদিও ভক্তদের বিরূপ মন্তব্যের কারণে পরে সেই পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাংলাদেশকে পুনরায় বিশ্বকাপে ফেরাতে পারে আইসিসি।









Discussion about this post