মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে কয়েক দিন ধরে অনিশ্চয়তায় ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ তারকা মুশফিকুর রহিম। পবিত্র উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েন তিনি।
দুশ্চিন্তা আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে অবশেষে আজ সকাল ১০টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
পরিকল্পনা ছিল জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরা। সেই অনুযায়ী ফ্লাইটে উঠলেও মাঝপথে পরিস্থিতির পরিবর্তনে বিমানটি আবার জেদ্দায় ফিরে আসে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো যাত্রীর মতো তিনিও হয়ে পড়েন অনিশ্চিত যাত্রার অংশ। নির্ধারিত সময় শনিবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হয়নি।
এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নিজের অবস্থান জানিয়ে যান মুশফিক। তিনি লিখেছিলেন, উমরাহ শেষ করে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব ফ্লাইট জেদ্দায় ফিরে এসেছে। কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানান তিনি। তাঁর সেই পোস্টের পর থেকেই ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও নজরদারি ছিল। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং মুশফিকের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেন যে মুশফিক সুস্থ ও নিরাপদ আছেন এবং দ্রুতই দেশে ফিরতে পারবেন।
রোববার গভীর রাতে মুশফিক নিজেই আরেকটি পোস্টে জানান, তিনি অবশেষে বিমানে উঠেছেন এবং সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর আশা করছেন। যারা খোঁজখবর রেখেছেন ও দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
অবশেষে আজ সকালে দেশে ফিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার চোখেমুখে টানা উদ্বেগের ছাপ থাকলেও দেশে ফেরার নিশ্চয়তায় ছিল স্বস্তির আভাস। কয়েক দিনের উৎকণ্ঠা শেষে নিরাপদে ঘরে ফেরায় স্বস্তি পেয়েছেন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরাও।









Discussion about this post