জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম তার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন। এর আগে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত শেষে চারটি অভিযোগের মধ্যে দুইটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে মঞ্জুকে বিসিবির সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এই শাস্তিকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না জাহানারা। তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি, কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। আমার সাথে যা যা হয়েছে, যা যা আমি মোকাবেলা করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি খুব সামান্য মনে হয়েছে আমার কাছে। আমি আরও বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’
ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে তিনটি অনুরোধ তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন,‘আমি আজ আপনার কাছে ৩টি অনুরোধ নিয়ে এসেছি… দয়া করে আমার অনুরোধগুলো বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।’
নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় জাহানারা বলেন, ‘২০২০-২০২৪ সাল পর্যন্ত, এই দুইজনের কুপ্রস্তাবে আমি রাজি হই নাই দেখে… চার বছর ধরে আমাকে চরম লেভেলের মেন্টাল টর্চার, মেন্টাল অ্যাবিউস করেছে, সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং আমাকে চরম লেভেলের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” তিনি আরও বলেন, “তবে তাদের সহযোগী গ্রুপের কোনো বিচারও হয়নি শাস্তিও হয়নি।’
তার মতে, সমস্যা ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক, ‘শুধু ক্রিকেট অঙ্গনের কথা বিবেচনা করলে আমার মত হাজারো জাহানারা পৃথিবীর অসংখ্য দলে আছে… আমি জাহানারা মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাইনি। অই জাহানারারাও এই মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাবে বলে আমি মনে করি না।’
প্রথম দাবিতে তিনি বলেন, ‘মঞ্জু এবং তার সহযোগী গ্রুপের কঠিন থেকে কঠিন বিচার চাই। দয়া করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করুন।’
এদিকে সাবেক ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকর মন্তব্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান জাহানারা, ‘আমি মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে ছুটিতে আছি, আমার মানতে কষ্ট হয় আপনি একজন ক্রিকেটার ছিলেন… আজকে যদি আপনার বোন, মেয়ে, স্ত্রীরা ক্রিকেট খেলত, আপনি কি এই নোংরা মন্তব্য করতেন?’
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, ‘আমার যে বোনেরা সাহস পেয়ে তাদের অভিযোগগুলো তুলে ধরেছে… সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সবগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করেন, বিচার না করলে তারা কোনো দিন আর নিজেদের জায়গায় ফিরতে পারবে না।’
শেষ দাবিতে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামোগত সংস্কারের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে নারী এবং শিশুদের জন্য একটা সেইফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থার করে দিন। যদি তাদের অন্যায় প্রমাণিত হয়, তাহলে বড় রকমের আর্থিক জরিমানাসহ কঠিন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, দয়া করে আমাদের বাঁচান।নারীদের জন্য ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করে দিন।’
বর্তমানে ক্রিকেট থেকে কিছুটা দূরে থাকা জাহানারার এই বক্তব্য আবারও সামনে এনেছে নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং বিচারপ্রাপ্তির প্রশ্নকে।









Discussion about this post