বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য দুঃস্বপ্নের আসর যেন আরও গাঢ় রঙ ধারণ করছে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে টানা ষষ্ঠবার মাঠ ছাড়ল হতাশ মুখে। এর আগে প্রথম পাঁচ ম্যাচ হেরে বিপিএলের ইতিহাসে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছিল দলটি, আর এবার সেই রেকর্ডই নিজেদের হাতে আরও বড় করল নোয়াখালী।
আজ টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক শুরু পায় নোয়াখালী। ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাহাদাত হোসেন দিপু প্রথম উইকেটে যোগ করেন ৫৭ রান, যা চলতি আসরে নোয়াখালীর সেরা ওপেনিং জুটি। দিপু ৩০ রান করে ফিরলেও সৌম্য ছিলেন সাবলীল। ৪৩ বলে ৫৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি।
তবে শুরুটা যতটা উজ্জ্বল ছিল, শেষটা ছিল ততটাই ম্লান। সৌম্যের বিদায়ের পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে নোয়াখালী। মোহাম্মদ নবী ৩৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানেই থামে দলটি। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে রিপন মন্ডল ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর, পেয়েছেন দুটি উইকেট। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বল হাতে অবদান রাখেন।
১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহী শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তানজিদ হাসান তামিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি লক্ষ্য তাড়ায় গতি এনে দেয়। তানজিদ ২১ রান করে ফিরলেও ওয়াসিম ছিলেন আগ্রাসী। ৩৫ বলের ইনিংসে চারটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে তিনি করেন ম্যাচসেরা ৬০ রান।
মাঝপথে রাজশাহীর ব্যাটিংয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। অধিনায়ক শান্ত মাত্র ১ রান করে মেহেদী হাসান রানার বলে আউট হন, মুশফিকুর রহিমও থামেন ১৯ রানে। তবু রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ রানে ভর করে ৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
নোয়াখালীর হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মেহেদী হাসান রানা, যিনি ২৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। কিন্তু দলীয় ব্যর্থতার ভিড়ে তার এই পারফরম্যান্সও হার এড়াতে পারেনি।
এই জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচে চার জয়ের আনন্দে ভাসছে। বিপরীতে ছয় ম্যাচ শেষে এখনো জয়ের দেখা না পাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য বিপিএল অভিযান ক্রমেই হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।










Discussion about this post