এটা পুরোনো খবর! আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসন্ন আসরে বাংলাদেশ খেলছে না! তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্রীড়াগত নয়, আর্থিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দিয়েছে। আইসিসির বোর্ড সভার ভোটাভুটির পর বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং স্কটল্যান্ড জায়গা পায়। এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষ মিলিয়ে শত শত কোটি টাকার সম্ভাব্য আয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শুরুতেই অংশগ্রহণ ফি বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিসিবি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে আইসিসি দেয় ৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ। কেবল টুর্নামেন্টে না খেলায় এই অর্থই আর পাওয়া যাচ্ছে না। এর বাইরে প্রাইজমানির সুযোগও পুরোপুরি হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৫ম থেকে ১২তম স্থানে থাকা দলগুলো পেত সাড়ে ৪ লাখ ডলার, অর্থাৎ পাঁচ কোটির বেশি টাকা। ম্যাচ জয়ের বোনাস হিসেবে প্রতি জয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারের বেশি দেওয়ার কথা ছিল। কয়েকটি ম্যাচ জিতলেও অতিরিক্ত কোটি টাকার কাছাকাছি আয় হতো।
সবচেয়ে বড় ধাক্কার জায়গা আইসিসির রাজস্ব বণ্টন। বর্তমান চক্রে আইসিসির মোট আয়ের ৪.৪৬ শতাংশ পায় বাংলাদেশ, যার বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকা। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় ভবিষ্যৎ বণ্টনে এই অংশ কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, এই বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ৩৩৭ কোটিরও বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে পারে। পাশাপাশি যথাযথ কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রায় ২০ লাখ ডলার বা ২৫ কোটি টাকার মতো জরিমানার ঝুঁকিও রয়েছে।
ক্ষতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাজারেও। বাংলাদেশ না থাকায় দেশের অফিসিয়াল সম্প্রচারক প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কায়। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি ধরা হচ্ছে আরও প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেট অর্থনীতিতে এক গভীর আর্থিক শূন্যতা তৈরি করছে!










Discussion about this post