এবার পাল্টা জবাব দিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড। গত বছরের বোর্ড নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মধ্যে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। যেখানে বিসিবি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মকানুনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বোর্ডের দৃষ্টিতে, এই তদন্ত উদ্যোগ একটি নির্বাচিত প্রশাসনের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে। আর সেই কারণেই তারা সামনে এনেছে আইসিসির কঠোর নীতিমালা, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে-কোনো ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে সরকারি বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
এই প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেট (নং ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০৩৫.২৪.১৯৬) প্রসঙ্গে এই বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে।’
বর্তমান বোর্ডের বৈধতা ও কার্যক্রম নিয়ে তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান বোর্ড যথাযথভাবে নির্বাচিত ও সম্পূর্ণরূপে সচল একটি সংস্থা, যা এর নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থে তার দায়িত্ব পালন এবং কার্যভার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ওপরে উল্লিখিত গেজেট জারি করায় তাৎপর্যপূর্ণ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এটি বিসিবির নির্বাচিত প্রশাসনের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।’
আইসিসির নিয়মের প্রসঙ্গ টেনে বিসিবি আরও বলেছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি পূর্ণ সদস্য। আইসিসির শাসন কাঠামো অনুসারে, নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের বিষয়ে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হতে পারে এমন যে কোনো পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং এটি আইসিসির সুশাসন ও সম্মতি বিধানের অধীনে পর্যালোচনার কারণ হতে পারে।’
এমনকি আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিতও রয়েছে তাদের বক্তব্যে, ‘এটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এমন কোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।’
তবে আপাতত পরিস্থিতি সংলাপের মাধ্যমেই সামাল দিতে চায় বিসিবি। তারা জানিয়েছে, ‘আইসিসির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা প্রক্রিয়া শুরু করার আগে বিসিবি মনে করে, এই গেজেটের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট করার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করাই সমীচীন হবে।’
সবশেষে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘সকল সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিসিবি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রিকেট প্রশাসন মানদণ্ড অনুযায়ী একটি নির্বাচিত ক্রিকেট প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাও অপরিহার্য।’
এদিকে এনএসসি যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তার নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।










Discussion about this post