বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে ঘিরে এখন চলছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা। দেশের ক্রিকেট মাঠের খেলা যেখানে ব্যাট–বলের লড়াই, সেখানে বোর্ড ঘিরে লড়াই শুরু হয়ে গেছে নেতৃত্বের জন্য। সভাপতি ও পরিচালক-এই দুটি পদেই চলছে সমীকরণ আর কৌশল।
বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নিয়েছেন অনেকটা হঠাৎ করেই। আইসিসির চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে বোর্ডের দায়িত্ব নিলেও, নির্বাচনের প্রসঙ্গ এলে তিনি শান্ত গলায় বলেন, ‘নির্বাচন হলে মানুষ সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নেবে। আমি এখন কেবল নিজের দায়িত্ব নিয়েই মনোযোগী।’ তার ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, সভাপতি না হলেও বুলবুল বোর্ডে থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে চান।
অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি বিসিবির কোনো রোডম্যাপে ছিলেন না। কিন্তু প্রভাবশালী পরিচালক মাহবুব আনামের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। শোনা যাচ্ছে, ঢাকার একাধিক ক্লাব ইতিমধ্যেই তামিমকে সমর্থন জানাচ্ছে। শুরুতে যাকে কোয়াব নির্বাচনের জন্য ভাবা হচ্ছিল, সেই তামিম এখন বিসিবি নির্বাচনের সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হিসেবেই আলোচনায়।
বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক বাছাইয়ের পর তাদের ভোটেই নির্ধারিত হয় সভাপতি। আর এই কাউন্সিলরদের ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। অনেকে বুলবুলের ওপর আস্থা রাখলেও, নতুন হিসাব–নিকাশে আবারও ভিন্ন সমীকরণে ঝুঁকছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের যোগ-বিয়োগে পাল্টে যেতে পারে পুরো চিত্র।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-নির্বাচন কি যথাসময়ে হবে, নাকি গঠিত হবে অ্যাডহক কমিটি? সিলেটে আগামী বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে পুরো প্রক্রিয়ার গতি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাঠে যেমন হঠাৎ মোড় ঘুরে যায়, বোর্ড নির্বাচনের মঞ্চও তেমনি অনিশ্চয়তায় ভরা। বুলবুল স্থিতধী নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা চান, অন্যদিকে তামিম ইকবাল নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, কাউন্সিলররা কাকে বেছে নেন-অভিজ্ঞ প্রশাসক, নাকি সাবেক অধিনায়ককে।
Discussion about this post