বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ জেতার দ্বারপ্রান্তে থেকেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকরা পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে হারায়।
তৃতীয় ম্যাচ শেষে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করতে পারত, কিন্তু পরপর দুই পরাজয়ে সাদিয়া ইসলামের দলকে শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ৮৪ রানে। ব্যাট হাতে লড়াইয়ে একমাত্র ভরসা ছিলেন মিডল–অর্ডারের সাদিয়া আক্তার, যিনি ৩০ বলে ২৮ রান করে দলের ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার বাইরে আর কেউই দুই অংকে যেতে পারেননি; সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা ও হাবিবা ইসলাম পিংকি ৯ করে রান করেন, বাকিরা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
পাকিস্তানের বারিরাহ সাইফ বল হাতে হয়ে ওঠেন দুর্বার মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন। সমান রানে ২ উইকেট তোলেন রোজিনা আকরাম।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমেও পাকিস্তান প্রাথমিক ধাক্কা খায়। দলীয় ১৬ রানে ইমান নাসের ও রাহিমা সাইদকে হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে তারা। তবে ওপেনার কোমল খান এবং আকসা হাবিবের দায়িত্বশীল ব্যাটিং পাকিস্তানকে পথে ফিরিয়ে আনে। কোমলের ২৫ ও আকসার ২১ রানের ইনিংস জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ফাইজা ফিয়াজ ও আরিসা আনসারি অপরাজিত থেকে দলকে ১৭তম ওভারে জয় এনে দেন।
বাংলাদেশের হয়ে অতশি মজুমদার, ফারজানা ইয়াসমিন মেধা এবং পিংকি একটি করে উইকেট নিলেও তা ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেনি। ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নিতে না পারাই শেষ পর্যন্ত সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরিজের প্রথম চার ম্যাচ শেষে সমতা থাকায় শেষ ম্যাচটি রূপ নেয় অলিখিত ফাইনালে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে একচেটিয়া দাপট দেখায় পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ নারী দল, আর স্বাগতিকদের জন্য সিরিজ শেষ হয় হতাশার সুরে।










Discussion about this post