অ্যাশেজের শেষ দিনের আলোয় সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড ছিল উৎসবের রঙে। কিন্তু সেই উল্লাসের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক আবেগঘন বিদায়। উসমান খাজা, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটে যিনি ছিলেন স্থিরতা ও ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি, আজ শেষবারের মতো মাঠে নামলেন। যে এসসিজিতে শুরু হয়েছিল তার টেস্ট যাত্রা, সেখানেই এসে থামল দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলা।
জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুটা আক্রমণাত্মক করলেও মাঝপথে উইকেট হারাতে থাকে। সেই চাপের মুহূর্তেই পাঁচ নম্বরে নামেন খাজা।
ওপেনিংয়ে অভ্যস্ত এই বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য এটি ছিল এক ভিন্ন পরিস্থিতি, তবু চোখে ছিল সেই চেনা সংযম। মাত্র ৭ বলের ইনিংসে ৬ রান করে জস টাঙের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ব্যাটিংয়ের স্থায়িত্ব না থাকলেও বিদায়ের মুহূর্তে তৈরি হয় এক স্মরণীয় দৃশ্য।
পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে হাততালি দেয়, সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের অভিনন্দনে ভরে ওঠে মাঠ। খাজা ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের কৃতজ্ঞতা জানান, এরপর মাঠে সিজদা দিয়ে শেষবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান।
এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও বড় রান পাননি তিনি, করেছিলেন ১৭। কিন্তু খাজাজার ক্যারিয়ার কখনোই এক ম্যাচে ধরা পড়ার নয়। ৮৮ টেস্টে ৪২.৯৫ গড়ে ৬ হাজার ২২৯ রান তার ব্যাটিংয়ের পরিসংখ্যানের গল্প বলে। তার চেয়েও বড় কথা, দল থেকে বাদ পড়ে আবার ফিরে এসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের নির্ভরতার জায়গায় পৌঁছানো-এই প্রত্যাবর্তনই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
খাজাজার বিদায়ের দিনে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটিও জিতে নেয়। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারির অবিচ্ছেদ্য জুটিতে পাঁচ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে তারা, আর পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হয় ৪-১ ব্যবধানে। ট্রাভিস হেড ও মিচেল স্টার্কের পারফরম্যান্সে সিরিজটি স্মরণীয় হলেও সিডনি টেস্টের শেষ দিনে আবেগের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন একজনই।
উল্লাসের মাঝেই তাই মিশে গেল বিদায়ের সুর। উসমান খাজা মাঠ ছাড়লেন শান্তভাবে, বিনয়ের সঙ্গে, যেভাবে তিনি খেলেছেন পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে। রান আর ইনিংস থেমে গেছে, কিন্তু সিডনির এই বিকেল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে থেকে যাবে এক সম্মানিত বিদায়ের স্মৃতি হয়ে।










Discussion about this post