অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের সময়টা যাচ্ছে কঠিনের মধ্যেও কঠিন। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না এই তরুণ ক্রিকেটার। এখন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে ১১ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি। এমন পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে কেন সমালোচনা থামছে না।
সাম্প্রতিক আফগানিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতা সেই সমালোচনাকে আরও তীব্র করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মিরাজ কি সত্যিই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত? আবার কেউ কেউ বলছেন, পারফরম্যান্সের দিক থেকে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হলেও নেতৃত্বে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সিরিজ হারে দলের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
তবু সব সমালোচনার মাঝেই মিরাজের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৮১ রানের জয়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একজন অধিনায়ককে বিচার করতে সময় দিতে হয়। একটা-দুইটা সিরিজ দিয়ে কিছু বলা ঠিক না। অন্তত ছয়-সাতটা সিরিজ সময় দিতে হবে, তবেই বোঝা যাবে তিনি কেমন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
মিরাজের নেতৃত্বে পাওয়া সাম্প্রতিক জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ১৭ রান করলেও বোলিংয়ে ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী। ১০ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করে নেন একটি উইকেট। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা, যা বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
নান্নুর মতে, মিরাজের নেতৃত্বগুণ নতুন কিছু নয়; বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই তিনি তা প্রমাণ করেছেন। ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে। ওর ক্রিকেটবুদ্ধি আছে, পরিশ্রম আছে, সামর্থ্যও আছে। সময় দিলে ও ভালো করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি,’ বলেন নান্নু।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ ২১ ও ২৩ অক্টোবর মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে। দুই ম্যাচই বেলা দেড়টায় শুরু হবে। সিরিজে বাংলাদেশ যদি ধবলধোলাই করতে পারে, তাহলে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে উঠবে এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।










Discussion about this post