করোনায় টাইগারদের যে ক্ষতি হলো

Bd-team.jpg

ক্রিকবিডি২৪.কম রিপোর্ট

চলতি বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল ব্যস্ততম। একের পর এক সিরিজ আর আইসিসির বড় একটি টুর্নামেন্টে মাঠ মাতানোর কথা ছিল টাইগারদের। কিন্তু আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে তাকালে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। যে কারণে এ বছর টাইগারদের বড় ক্ষতি করে দিলো করোনা। চলুন দেখা নেওয়া যাক, করোনার কারণে বাংলাদেশের কোন কোন সিরিজ স্থগিত হলো।

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর : চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এক টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেলতে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি সময়েই আসে সিরিজ স্থগিতের ঘোষণা। পাকিস্তান সফর স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা মনোযোগ দেয় প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে। এক রাউন্ডের ছয় ম্যাচ খেলার পর প্রিমিয়ার লিগও বন্ধ করতে হয় ক্রিকেট বোর্ডকে।

বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর : এ বছরের মে মাসে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে লিগের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। শুধু তা-ই নয় আইরিশদের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্টও খেলার কথা ছিল। কিন্তু আইরিশ বোর্ডের আর্থিক সমস্যার কারণে টেস্টের বদলে চারটি টি-টোয়েন্টি যোগ হয় সিরিজে। ভেন্যু সংকটের কারণে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো ইংল্যান্ডে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সব আয়োজন ভেস্তে যায় করোনাভাইরাসের কারণে।

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর : এ বছরের জুনে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলার সূচি চূড়ান্ত ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু করোনার ঝুঁকিতে সিরিজ গেল জলে।

বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর : অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ করে জুলাই মাসে বাংলাদেশের তিন টেস্ট খেলার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। করোনার কারণে সফরটি পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থগিতই করতে হয় সিরিজটি। তবে স্থগিত হওয়া সিরিজটিই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আয়োজনের চেষ্টা করছে দুই বোর্ড। শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়েই হয়তো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা বেশি।

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর : এ বছরের আগস্টে বাংলাদেশে দুই টেস্ট খেলতে আসার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড দলের। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য আদর্শ না। নিউজিল্যান্ডে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্রিকেটাররা ছিল গৃহবন্দী। স্থগিত হওয়াই ছিল সিরিজের ভাগ্য।

এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপ : সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টির এশিয়া কাপ মাঠে গড়ানোর কথা। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপ সামনে রেখে অনুশীলনও শুরু করেছিল। প্রস্তুত ছিল পাকিস্তানও। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট ছিল গৃহবন্দী। শেষ পর্যন্ত এবারের এশিয়া কাপ পিছিয়ে যায় এক বছর।

অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি। কিন্তু করোনার কারণে বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড সফর : বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অক্টোবরেই নিউজিল্যান্ডে তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি খেলেই বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ায় সিরিজও হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *