দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাথলেট ও সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমো মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন মিমো। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাঁটাচলায় অসুবিধা ও মানুষ চিনতে সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হলো না। তার ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে বাবার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।
১৯৫৯ সালের ১ নভেম্বর দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া শামীমা সাত্তার মিমো স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস অঙ্গনের অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটিকসে হাই জাম্প ইভেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্প্রিন্টেও একাধিক পদক জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন মিমো। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দিনাজপুরে বিকেএসপির কার্যক্রম গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
বিকেএসপিতে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অ্যাথলেটিকস ও আর্চারি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অ্যাথলেটিকসের জাজ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। তবে ক্রীড়াঙ্গনে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়েই তিনি পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুতে বিকেএসপি, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশন, বাফুফেসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।









Discussion about this post