পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রায় দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষে জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানালেন তিনি।
করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজ ২০০৭ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন। এরপর ২০১০ সালে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিষেক হয় তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের হয়ে তিনি খেলেছেন ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার সংগ্রহ ৬ হাজার ১৬৪ রান। ব্যাট হাতে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনে তার ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩১৫টি ক্যাচ ও ৫৬টি স্টাম্পিং।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সরফরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০ ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার অধিনায়কত্বে একসময় টি–টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে আসে পাকিস্তান দল। পাশাপাশি তার নেতৃত্বেই টানা ১১টি টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল দলটি।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জন আসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেই আসরের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কীর্তি গড়েন। এর আগেই ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। ফলে জুনিয়র ও সিনিয়র—দুই পর্যায়েই আইসিসি শিরোপা জেতা একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে আলাদা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেন সরফরাজ।
ব্যক্তিগত কৃতিত্বেও উজ্জ্বল তার ক্যারিয়ার। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচে উইকেটের পেছনে ১০টি ক্যাচ নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। আবার ২০১৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানের একমাত্র উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে সেই মাঠে শতক হাঁকানোর বিরল কীর্তিও গড়েন।
জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামেন সরফরাজ। অবসরের ঘোষণায় তিনি বলেন, পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতা—প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।










Discussion about this post