রান আটকাতে হলে তাকে ডাকুন, উইকেটের প্রয়োজন হলেও তাকেই বল দিন, চাপের মুহূর্তে দলের ত্রাতারূপে আবির্ভূত হওয়ার যেন এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে জসপ্রীত বুমরার। ডেথ ওভারে ব্যাটারদের দিকে তার ছোড়া নিখুঁত ইয়র্কার যেন বিষাক্ত মৃত্যুবাণ। এমন বোলিংয়ে আবারও মুগ্ধতা ছড়ালেন ভারতীয় এই তারকা পেসার।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের শেষ দিকে সেই বুমরার জাদুই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ম্যাচের শেষ তিন ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৫ রান। সেই চাপের মুহূর্তে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বল তুলে দেন বুমরার হাতে। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই স্যাম কারানকে এমন নিখুঁত ইয়র্কার দেন তিনি যে কোনো রান নেওয়ার সুযোগই পাননি কারান। পুরো ওভার থেকে দেন মাত্র ৬ রান। ফলে সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ দুই ওভারে ৩৯ রান, যা আর মেলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত।
বুমরার এই ডেথ ওভারের বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘জসপ্রীত বুমরা। তুমি তেল ছাড়া রান্না কীভাবে করতে হয়, সেটা দেখিয়েছ। কী বোলার তুমি। প্রত্যেক যুগে একবারই আসে।’
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৫৩ রান। ইংল্যান্ডের পিচ্ছিল ফিল্ডিংও এতে বড় ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত ১৫ রানে জীবন পান সঞ্জু স্যামসন, যখন জফরা আর্চারের বলে মিড-অনে সহজ ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৩ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৯ রান করেন স্যামসন। ভারতের ৭ রানের জয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি।
স্যামসনের মতে, ম্যাচসেরার পুরস্কারটি প্রাপ্য ছিল বুমরারই। কারণ শেষ ওভারের বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই পেসার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্যামসন বলেন, ‘সব কৃতিত্ব বুমরারই প্রাপ্য। আমার মনে হয় তিনি একজন বিশ্বমানের বোলার। প্রত্যেক প্রজন্মে এমন ক্রিকেটার সত্যিকার অর্থে একবারই জন্মায়। আজ সে সেটা প্রমাণ করেছে। আসলে এই পুরস্কারটা তারই পাওয়া উচিত। ডেথ ওভারে এমন বোলিং করতে না পারলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’
এই জয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত। রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ভারত নামবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে, আর নিউজিল্যান্ড চেষ্টা করবে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিততে। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল কিউইরা।










Discussion about this post