চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এখনও দুই দিন বাকি থাকতেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলে আট দল। সবার আগে জায়গা করে নেয় দুবারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর একে একে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে নাম লেখায় পরের পর্বে। শেষ দল হিসেবে সুপার এইটের টিকিট কাটে পাকিস্তান।
কলম্বোয় নামিবিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়েই শেষ আটে ওঠে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে তারা। ইনিংসের মূল নায়ক সাহিবজাদা ফারহান, যিনি ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৮ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ দিকে নেমে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান যোগ করলে ২০০ রানের বড় লক্ষ্য পায় নামিবিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। উসমান তারিখ ১৬ রানে ৪ উইকেট নেন, শাদাব খান নেন ১৯ রানে ৩ উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি পাকিস্তানের প্রথম ১০০ বা তার বেশি রানের জয়।
সুপার এইটে আট দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম গ্রুপে রয়েছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় গ্রুপে পাকিস্তানের সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সুপার এইট পর্ব, যা চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ে মোট ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ ও ৫ মার্চ দুটি সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশিত রোমাঞ্চ দেখা যায়নি। সহযোগী দেশগুলো কয়েকটি ম্যাচে লড়াইয়ের ঝলক দেখালেও শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেপাল, পাকিস্তানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতালি সাহসী ক্রিকেট খেলেও চমক দেখাতে পারেনি। একমাত্র ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ই ছিল বড় অঘটন। ফলে অন্যান্য গ্রুপ থেকে প্রত্যাশিত দলগুলোই উঠেছে সুপার এইটে। এখন প্রশ্ন, গ্রুপ পর্বে যে উত্তেজনার ঘাটতি ছিল, সুপার এইটে কি তা পূরণ হবে?
এই পর্বে সব দলই শূন্য পয়েন্ট নিয়ে শুরু করবে। গ্রুপ পর্বের কোনো পয়েন্ট এখানে বহাল থাকবে না। প্রতিটি জয়ের জন্য মিলবে ২ পয়েন্ট। খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোনো ম্যাচে অন্তত পাঁচ ওভার করে খেলা সম্ভব না হলে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে এবং দুই দল পাবে ১ পয়েন্ট করে।
সুপার এইটের সূচি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে। ২২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড ও ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ রয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-পাকিস্তান, ২৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত-জিম্বাবুয়ে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড, ২৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ১ মার্চ জিম্বাবুয়ে-দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সুপার এইট পর্ব।
চোখ সুপার এইটের দিকে। বিশ্বকাপের আসল লড়াই শুরু হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াই।










Discussion about this post