ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্টে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার স্বাদ পেলেন হাসান মাহমুদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৬ উইকেট নিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার। শুধু তাই নয়, টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের ইনিংস পাঁচটি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লিয়নের।
বিদেশের মাটিতে আগেই একাধিকবার পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন হাসান। এবার নিজের দেশের দর্শকদের সামনে লাল বলের ক্রিকেটে সেই অর্জনের খাতা খুললেন তিনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৫১ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন এই পেসার। তার বোলিংয়েই শেষ পর্যন্ত ৩৫৬ রানে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি হাসানের পঞ্চম ফাইফার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ইনিংসে সর্বোচ্চ পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এর আগে চারটি করে ফাইফার নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন হাসান ও শাহাদাত হোসেন।
গত অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। এক মাসের ব্যবধানে আবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। এবার তার শিকার তালিকায় রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি ফাইফার নিয়ে নাথান লিয়নের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।
দেশের মাটিতে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ঘরের মাঠে পাঁচ উইকেট পাওয়াটা সবসময়ই আমার জন্য খুবই স্পেশাল। নিজেদের মাঠে ভালো একটা সুযোগ ছিল, তাই অনুভূতিটা অনেক আনন্দের।’
সিলেটের উইকেটে সাধারণত পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। শুরুতে কিছুটা মুভমেন্ট থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের চরিত্র বদলে যায়। দ্বিতীয় দিনের সংবাদ সম্মেলনে উইকেটের এই পরিবর্তন এবং নিজেদের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন হাসান।
তিনি বলেন, ‘সিলেটের উইকেটে আমরা যখন খেলেছি, মুভমেন্ট থাকে, আকাশ মেঘলা থাকে। বেশিরভাগ সময় ফাস্ট বোলারদের পক্ষেই থাকে কন্ডিশন। কিন্তু এই উইকেটটা সম্ভবত প্রথম এক-দুই ঘণ্টা পর খুবই ফ্ল্যাট হয়ে গিয়েছিল, পুরোপুরি ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। তবে আমি আর তাসকিন ভাই চেষ্টা করেছি লাইন মেইনটেইন করে বল করার এবং কনসিস্টেন্সি বজায় রাখার।’
উইকেটে সুইং ও সিম মুভমেন্ট কমে আসার পর বোলিংয়ের ধরনেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে পেসারদের। নতুন বল হাতে আক্রমণাত্মক লাইন-লেংথে বোলিংয়ের চেষ্টা থাকলেও পুরোনো বলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘নতুন বলে আমাদের প্ল্যান থাকে যত ওপরে বোলিং করা যায়, ব্যাটারকে ড্রাইভ খেলতে বাধ্য করা। সিম ও সুইং থাকায় স্লিপে ক্যাচ বা বোল্ড হওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু বল পুরোনো হয়ে গেলে আমরা লেংথ একটু পিছিয়ে আনি এবং ইকোনমিক্যাল বোলিং করার চেষ্টা করি। তখন দুই প্রান্ত থেকে মেডেন দিয়ে পার্টনারশিপ বোলিং করাই মূল লক্ষ্য থাকে।’
নিজের বোলিং দর্শন তুলে ধরে এই পেসার বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট সবসময়ই স্পেশাল। আমি জিনিসগুলো খুব সহজ রাখার চেষ্টা করি। কন্ডিশন যেমনই হোক, দলের চাওয়া অনুযায়ী বোলিং করা এবং ডিসিপ্লিন ধরে রাখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
বল হাতে দুর্দান্ত এক দিন কাটালেন হাসান মাহমুদ। একের পর এক কীর্তি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে তুলে নিলেন ৬ উইকেট। গড়লেন বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ইনিংসে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড। তবে হাসানের এমন রেকর্ডময় পারফরম্যান্সের দিনেও স্বস্তি নেই বাংলাদেশ শিবিরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আজ চাপে রয়েছে স্বাগতিকরা।



