ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় দিনে তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের সংগ্রহ ৪০০ রানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। একই সঙ্গে দলের টপ অর্ডারের ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতির সুযোগ দেখছেন তিনি।
অঅজ বুধবার মিরপুরে প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হাতে ৭ উইকেট আছে। আশা করব (প্রথম ইনিংসে আমরা) ৪০০+ রান করব। তাহলে আমরা ম্যাচে ভালো অবস্থায় থাকব।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগেই ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মোহাম্মদ আশরাফুলকে। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন। দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মাথায় মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিলেন সাদমান। ক্যারিবীয় পেসার শামার জোসেফ ও জেডন সিলসের বিপক্ষে শুরুতে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশের ব্যাটারদের। মাত্র ৯ রানে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারানোর পর প্রথম ১০ ওভারে ১৯ রান তুলতে পারে স্বাগতিকেরা। তবে শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিং করলেও পরে উইকেটে থিতু হয়ে দলের ইনিংস সামাল দেন সাদমান।
মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। চতুর্থ উইকেটে হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর ৮৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। যদিও ৪২ রান করে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় হৃদয়কে, তবু লিটন দাসকে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা সামলে নেন সাদমান। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের অপেক্ষায় আছেন তিনি।
সাদমানের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সে উইকেট খুব ভালো বুঝতে পেরেছে। পুরো ইনিংস যদি দেখেন, খুব বেশি শট খেলেনি। মাঝে মধ্যে টাফ টাইম আসে, তখন আমরা লুজ শট খেলে ফেলি। সে ক্রিটিক্যাল টাইম কাটিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইনিংসটি খেলেছে। ৫০-৬০ রানের ইনিংস অনেক খেলেছে, ইদানীং লম্বা হচ্ছিল না। সে নিজেকে নিয়ে কাজ করছে।’
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকা সাদমানকে নিয়ে দলের সবার মধ্যেই একধরনের উত্তেজনা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ। তার মতে, এই ইনিংস ভবিষ্যতে সাদমানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুরো দলই আসলে নার্ভাস। আমরা সবাই চাচ্ছিলাম সেঞ্চুরিটা হয়ে যাক। টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এই ইনিংস তাকে পরবর্তীতে অনেক সহায়তা করবে।’
সাদমানের ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট হলেও দলের টপ অর্ডারের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সালাহউদ্দিন। তাঁর মতে, উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকলেও পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখানে (এই টেস্টের উইকেট) বোলারদের জন্য কিছু আছে। ভালো বল করলে বোলাররা ভালো কিছু পাবে। আমাদের ব্যাটাররা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছে। টপ অর্ডার আরও ভালো করতে পারত, তাহলে আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম।’
প্রথম সেশনে মুমিনুল হকের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও কথা বলেছেন সালাহউদ্দিন। ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। তাঁর মতে, একই ধরনের ভুল বারবার করলে সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় ব্যাটারকেই খুঁজে নিতে হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যখন প্রতিবার একই ভুল করবেন, কোনো না কোনো সমস্যা আছে। ওকে নিজেকেই বের করতে হবে কীভাবে এখান থেকে বের হয়ে আসবে। বলটা খুব কাছে ছিল। আরেকটু দূরে থাকলে ওপর দিয়ে চলে যেত।’
এদিকে, উইকেট নিয়ে দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘এটা তো টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। আমি টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ নই। আমি এখানে গেস্ট হিসেবে এসেছি। তারাই এটার উত্তর দিতে পারবে। আমার মনে হয় যে পরিস্থিতিই থাকুক, টিম ডিসিশন নিয়েই কাজ করে। প্লেয়ারদের কথাও চিন্তা করে।’
বোর্ডের অধীনে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি বোর্ডের কর্মচারী। বোর্ডের বাইরে থাকলে অনেক কিছু বলতে পারতাম। যেহেতু বোর্ডের কর্মচারী, আমাকে যখন যেখানে দেবে, আমি সেখানে কাজ করতে বাধ্য। কাল যদি বলে চলে যাও, চলে যাব। যদি বাইরে চাকরি করতাম, অনেক কিছুই বলতে পারতাম।’
এ ছাড়া বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষেধাজ্ঞায় থাকা আলিসকে নিয়েও আশাবাদী সালাহউদ্দিন। এই সময়ে তাঁর জন্য মানসিক সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। আলিসের উন্নতি দেখে দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। এই সময়ে মানসিক সাপোর্ট খুব জরুরি। গত দুদিন ধরে আমার খুব খারাপ লাগছে। একটা দলের সাথে আছি, তাই তাকে সময়ও দিতে পারছি না। একটা ছেলে ক্রিকেট খেলতে পারবে না, এর চেয়ে খারাপ কিছু নেই। তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
আলিসের বোলিং অ্যাকশন শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকারিতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তার যে উন্নতি দেখছি, আমি আশাবাদী দ্রুতই শুধরে নেবে। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। অ্যাকশন শুধরে কার্যকরী হতে হবে। বোলিংয়ে কার্যকারিতা না থাকলে তো হবে না। আমাদের এটা খেয়াল রাখতে হবে। সেও যেন মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়।’
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ রান। হাতে রয়েছে আরও সাতটি উইকেট। সাদমানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করা এবং দ্বিতীয় দিনে দলের ব্যাটাররা কতটা বড় সংগ্রহ গড়তে পারেন, সেটিই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সালাহউদ্দিনের প্রত্যাশা, প্রথম ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান তুলে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে দল।



