ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ‘ডমেস্টিক থ্রি’ (ডি-থ্রি) টুর্নামেন্টের ক্রিকেটারদের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। প্রথম শ্রেণি, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-তিন সংস্করণকে একই কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রকাশিত ক্যাটাগরিভিত্তিক তালিকায় ‘এ’ শ্রেণিতে জায়গা পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহিদ হৃদয়, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও লিটন কুমার দাসের মতো তারকারা।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটারদের নিলাম। এর আগে আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে জানুয়ারিতে চার দিনের ম্যাচ এবং আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে পর্ব।
‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা অন্য ক্রিকেটাররা হলেন সৌম্য সরকার, মো. শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, সাইফ হাসান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এনামুল হক বিজয়, শেখ মেহেদী হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, জাকের আলী অনিক ও নাহিদ রানা। সব মিলিয়ে এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ২৩ জন ক্রিকেটার।
অন্যদিকে, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন সাব্বির রহমান, মার্শাল আইয়ুব, মাহমুদুল হাসান জয়, পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ রুবেল, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, রাকিবুল হাসান, অমিত হাসান, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, মোহাম্মদ মিঠুন, ইয়াসির আলী চৌধুরী, জাকির হাসান, সাদমান ইসলাম, শাহাদাত হোসেন দিপু, আফিফ হোসেন ধ্রুব, এবাদত হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও আলিস আল ইসলাম। এই তালিকায় রয়েছেন ২৪ জন ক্রিকেটার।
ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে আয়োজন করা হবে ডি-থ্রি। দলগুলো হলো এস ব্লু স্টার, একমি, সিটিজেনস ব্যাংক, সেভেন রিংস সিমেন্ট, ফরচুন ও ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী তিন মৌসুমের জন্য দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতিটি দল তিন সংস্করণের জন্য ২৩ জন ক্রিকেটার নিয়ে স্কোয়াড গঠন করবে।
নিলামে থাকছে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বিশেষ ব্যবস্থা। ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার প্রতিযোগিতা হবে অর্থের পরিবর্তে নির্ধারিত পয়েন্টের ভিত্তিতে। প্রতিটি দলের জন্য পয়েন্টের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ক্রিকেটারদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী পয়েন্ট বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। এতে তিন সংস্করণের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে কৌশলী হতে হবে। তবে প্রতি দলের চূড়ান্ত পয়েন্টসীমা সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এর আগে জানিয়েছিলেন, তা ১০ কোটি পয়েন্টের আশপাশে হতে পারে।
ডি-থ্রি চালুর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায় বিসিবি। নতুন কাঠামোয় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের চার দিনের ও এক দিনের প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি পর্বকে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের মূল প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আলাদাভাবে চলবে।
বিসিবির লক্ষ্য, তিন সংস্করণে একই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার সুযোগ দিয়ে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা বাড়ানো এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনা। সব মিলিয়ে ৪২টি ম্যাচের এই প্রতিযোগিতায় থাকবে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি এক দিনের এবং সাতটি চার দিনের ম্যাচ।



