দুই বছর আগে যা ছিল নিয়মিত ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তা ধীরে ধীরে রূপ নেয় দূরত্ব আর সন্দেহে। বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক সেই সময় রাজনীতির প্রভাবে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ে যে মাঠের খেলা যেন ছাপিয়ে যায় বাইরের উত্তেজনা।
জুলাই আন্দোলনের পর কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি সরাসরি প্রভাব ফেলে ক্রিকেটেও। নির্ধারিত সফর বাতিল করে ভারত, আর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় একের পর এক সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রশাসন। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া কিংবা বিশ্বকাপ বর্জনের মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই সময়টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নেতৃত্বেও আসে একাধিক পরিবর্তন। প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং নীতিগত দ্বিধা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সেই চিত্র বদলাতে পারে বলেই মনে করছেন সাকিব আল হাসান। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয় পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করবে। দেশে নতুন সরকার এসেছে, তারা ক্রিকেটের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
এই আশাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে না, বরং ক্রিকেট প্রশাসনের নতুন মুখগুলোর ওপরও ভরসা রাখছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এখন বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে দুই দেশের ক্রিকেটীয় যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত সময়টায় বিসিবির কিছু সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্ক তৈরি করেছিল, বিশেষ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি অবস্থান এবং বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। সেই প্রেক্ষাপট থেকে বেরিয়ে এসে এখন নতুন ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা চলছে।
সামনের বিসিবি নির্বাচনও এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচিত বোর্ড দায়িত্ব নিলে কেবল ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হওয়ার কথা। নতুন কমিটি গঠন হলে ভারতের পাশাপাশি অন্য সব বোর্ডের সঙ্গেই ফলপ্রসূ যোগাযোগ ও আলোচনা শুরু হবে। এতে আমাদের ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাবে।’










Discussion about this post