বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভেতরে-বাইরে গত দুই বছর যেন একের পর এক বড় খবর। একদিকে বোর্ডরুমে টানা অস্থিরতা, অন্যদিকে মাঠে প্রস্তুতির চেনা ছন্দ। এই দুই ভিন্ন জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স-দেখছেন, শুনছেন, কিন্তু খুব বেশি বিচলিত হচ্ছেন না।
নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে যখন তাকে প্রশ্ন করা হলো, দুই বছরে তিনবার বোর্ড সভাপতি পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন, তখন তার উত্তরে ছিল এক ধরনের অভিজ্ঞতার ক্লান্ত স্বীকারোক্তি, ‘জীবনে কোনোকিছুই আমাকে আর অবাক করে না।’
এই সংক্ষিপ্ত বাক্য যেন পুরো পরিস্থিতিরই প্রতিচ্ছবি। বোর্ডে পরিবর্তন এসেছে, বিতর্ক হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে; কিন্তু দলের ভেতরের প্রস্তুতিতে তেমন কোনো আলোড়ন দেখেননি সিমন্স। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, এটা আমাদের কাজে কোনো প্রভাব ফেলেনি। যে ক্যাম্প হয়েছে, পরিকল্পনামতোই হয়েছে। খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে কিনা এটা খেলোয়াড়দেরই জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে আমি কোনো সাইকোলজিক্যাল প্রভাব দেখিনি। তারা সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে, অন্য সময়ের মতোই।’
নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও তার অবস্থান পরিষ্কার-কাজের জায়গায় পরিবর্তন নেই। ‘হ্যাঁ তার সাথে কথা হয়েছে। ২ দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালে সে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসেছিল, কথা হয়েছে। তাই হ্যাঁ, একাধিকবার কথা হয়েছে… ওরা তো কেউ প্রধান কোচ হিসেবে আসেনি। আমি আমার কাজ করেই যাচ্ছি। আমরা প্রস্তুত হচ্ছি, তৈরি করছি। সেটাই করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা তো কেউ বদলে দিচ্ছে না।’
তবে বোর্ডের অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন যখন ঘুরেফিরে আসতেই থাকে, তখন সিমন্সের ধৈর্যের সীমাও চোখে পড়ে। আলোচনাকে অন্যদিকে নিতে চেয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘এবার ক্রিকেটের প্রসঙ্গে আসা যাক?’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক সময়টা ছিল টালমাটাল। রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক সভাপতি পরিবর্তন, বিতর্কিত নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত নতুন অ্যাডহক কমিটির অধীনে দায়িত্ব নেওয়া তামিম -সব মিলিয়ে অস্থিরতার রেশ এখনো কাটেনি।
তামিমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে-খেলোয়াড়ি জীবন পুরোপুরি শেষ না করেই দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক চেয়ারে বসা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। তবে এই প্রসঙ্গেও নিজেকে সরিয়ে রাখেন সিমন্স, ‘আমরা বরং ক্রিকেটেই থাকি।’










Discussion about this post