মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে শুরুতে যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, তাতে ফলাফল অনুমান করা ছিল কঠিন। ১০ ওভার শেষে নোয়াখালী এক্সপ্রেস যেখানে ৩ উইকেটে ৭৯ রান তুলে বেশ স্বচ্ছন্দ অবস্থানে, সেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস তখন ৫ উইকেটে মাত্র ৭২ রানে নড়বড়ে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, গল্প তত বদলেছে। শেষ পর্যন্ত সেই মধ্য ইনিংসের চিত্রকেই ভুল প্রমাণ করে সহজ জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।
আজ নোয়াখালীর ইনিংসের শুরুটা ছিল দারুণ আশাব্যঞ্জক। হাসান ইসাখিল প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। প্রথম তিন ওভারেই আসে ৩৪ রান। সৌম্য সরকারের ব্যাটেও ছিল আগ্রাসন। তবে সেই জুটি ভাঙতেই শুরু হয় ধস। সৌম্য শেখ মেহেদির বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন, এরপর দ্রুতই ফেরেন ইসাখিলও। এই দুই উইকেটের পর আর ছন্দ খুঁজে পায়নি নোয়াখালীর ব্যাটিং।
মাঝের দিকে জাকের আলি, হায়দার আলি কিংবা সোহান কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। একাদশে ফেরা মুনিম শাহরিয়ার রান আউটে কাটা পড়েন, চলতি আসরে ব্যর্থতায় থাকা সোহান আবারও হতাশ করেন। শেষ দিকে সাব্বির হোসেন কিছুটা চেষ্টা করলেও পুরো ইনিংস থামে ১৮.৫ ওভারে ১২৬ রানে। এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ৩.৫ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি কার্যত একাই ভেঙে দেন নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপ। শেখ মেহেদি হাসানও বল হাতে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট।
১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ছিল আরও ভয়াবহ। প্রথম পাঁচ ওভারেই চার উইকেট হারিয়ে তারা পড়ে যায় চাপে। জয়, হারিস, মাহফিজুল ও নাঈম শেখ দ্রুত ফিরলে নোয়াখালীর ডাগআউটে ভর করে জয়ের আশার আলো। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান। ক্রিজে এসে তিনি চাপকে পরিণত করেন পাল্টা আক্রমণে। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তিনি ইনিংস সামলান।
নাওয়াজ ফিরে গেলেও আর কোনো বিপর্যয় আসেনি। আসিফ আলিকে সঙ্গে নিয়ে মেহেদি গড়ে তোলেন অপরাজিত জুটি, যা চট্টগ্রামকে পৌঁছে দেয় লক্ষ্যে। ৩৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকা মেহেদি ছিলেন নির্ভার ও পরিণত, আর আসিফ আলি ৩০ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে জয়ের পথ আরও মসৃণ করেন। তিন ওভার হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান আরও শক্ত করল চট্টগ্রাম। বিপরীতে ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতেই রইল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ব্যাটে-বলে অসাধারণ অবদানের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে শেখ মেহেদি হাসানের হাতেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৮.৫ ওভারে ১২৬/১০ (ইসাখিল ২৫, সৌম্য ১৪, জাকের ২৩, হায়দার ১২, সোহান ১১, মুনিম ১, সাব্বির ২২, হাসান ৪, মেহেদি রানা ০, জাহির ৬*, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩.৫-১-৯-৫, শেখ মেহেদি ৩-০-১২-৩, জামাল ৪-০-৩৬-১)।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭ ওভারে ১২৮/৫ (জয় ০, নাঈম ১৮, হারিস ৭, মাহফিজুল ০, নাওয়াজ ১১, শেখ মেহেদি ৪৯*, আসিফ ৩৬*; হাসান ৩-০-১৭-১, ইহসানউল্লাহ ৪-০-২৩-২, সাব্বির ৩-০-৩২-১)
ফল: চট্টগাম রয়্যালস ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শেখ মেহেদি হাসান।










Discussion about this post