বোর্ড সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে ঘিরে দেশের ক্রিকেটে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এসব বক্তব্য বোর্ডের নীতিমালা, মূল্যবোধ কিংবা আনুষ্ঠানিক অবস্থানের প্রতিফলন নয় এবং এর দায় বিসিবি গ্রহণ করবে না।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের পরপরই এই অবস্থান জানায় বোর্ড। এর আগেও তামিম ইকবালকে নিয়ে করা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে আলোচনায় এসেছিলেন নাজমুল ইসলাম। সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ক্রিকেটারদের সম্মান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে-এমন উদ্বেগের মধ্যেই বিসিবির এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এলো।
বিসিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুরুতেই দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাঠকদের জন্য বিজ্ঞপ্তিটি তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বোর্ডের একজন সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় ।
বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে এমন সব মন্তব্যের জন্য, যেগুলো অনুচিত, আপত্তিকর বা কষ্টদায়ক বলে বিবেচিত হতে পারে। এসব বক্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মূল্যবোধ, নীতিমালা কিংবা আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে আচরণগত মান প্রত্যাশিত, এ ধরনের মন্তব্য তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বোর্ডের নির্ধারিত মুখপাত্র বা মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হবে না।
বিসিবি পুনরায় স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, বোর্ডের নির্ধারিত মুখপাত্র বা মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত বক্তব্য ছাড়া কোনো পরিচালক বা বোর্ড সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় বোর্ড গ্রহণ করে না। অনুমোদিত এসব চ্যানেলের বাইরে দেওয়া যেকোনো বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং সেগুলোকে বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি বা নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়।
একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্মান ও দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আরও জানাচ্ছে, কোনো ব্যক্তি যদি এমন আচরণ বা মন্তব্য করেন যা ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করে, সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
বোর্ড দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, অতীতে ও বর্তমানে যারা নিষ্ঠা ও গর্বের সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—সব ক্রিকেটারের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দু, এবং তাদের অবদান ও কল্যাণ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার খেলোয়াড়দের স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে, খেলাটির সব স্তরে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার অঙ্গীকারে বিসিবি অটল।
এই অবস্থান আসার আগে বুধবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজমুল ইসলাম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপে বিসিবির কোনো লাভ বা লোকসানের হিসাব নেই এবং ক্ষতি হলে সেটি হবে ক্রিকেটারদেরই।
নাজমুল ইসলামের ভাষায়, ‘বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে কারণ তারা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচ সেরা হলেও পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’
ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ঐ টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
এই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটারদের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাজমুল বলেন, ‘এই প্রশ্ন তুলতেই পারবে না। কারণ হচ্ছে, আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত একটাও বৈশ্বিক কাপ আনতে পেরেছি? প্রতিবারই তো বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারো নাই, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি নিতে থাকি। ফেরত দেও।’
পরবর্তীতে পারফরম্যান্সভিত্তিক পারিশ্রমিক কাঠামোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই ধরনের চিন্তা হতে পারে, পারফরম্যান্স বেইজড। আমার একার সিদ্ধান্তে হবে না। বোর্ডের সিদ্ধান্তে হবে। বোর্ড ডিসাইড করবে। আমার পয়েন্ট অব ভিউ হতেই পারে। কথা যেহেতু আসছে, সামনে এমন হতেই পারে। আপনারা সবাই তো এই বিষয়ে সাজেস্ট করছেন। আমি ২৫ জনের একজন, তবে আমিই ২৫ জন না।’










Discussion about this post