২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ ধাপে এসে বাংলাদেশ দলের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিপিএলের পারফরম্যান্স দিয়েই লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম ও মুস্তাফিজুর রহমানদের প্রস্তুতি যাচাই হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে ভিন্ন জায়গায়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই এখন ক্রিকেটাঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রে।
বিশ্বকাপের আগে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তামিম ইকবালকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাপ্রবাহ যে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল, সেটার ইঙ্গিত কদিন আগে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে, যার প্রভাব মাঠের খেলায় পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরামর্শক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে জানতে চান সাংবাদিকেরা, চলমান ঘটনাপ্রবাহ ক্রিকেটারদের মানসিকতায় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। শান্তর বক্তব্যের প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘যেটা বলছিলাম ক্রিকেটারদের মধ্যে অবশ্যই বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ হয়। তারা এই ব্যাপারে ভাবেন। এই জিনিসগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। কোনো বিশ্বকাপের আগে এমন ঘটনা ঘটুক, আমরা অবশ্যই সেটা চাই না। আমরা শুধু চাই যে বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করব। তবে যেহেতু এমন হয়ে যায়…এর আগেও তো এমন হয়েছে। মাঝেমধ্যে সেকারণে ফলও ভালো আসেনি। এই মুহূর্তে মনে হয় ক্রিকেটাররা সেখান থেকে ব্যক্তি হিসেবে আমি ইতিবাচক চিন্তা করতে চাই।’
বিপিএলের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়ানো সময়ে বাইরের আলোচনায় না জড়িয়ে মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে সুমন।
তার মতে, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলই দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ক্রিকেটার হতাম, তাহলে যেটা করতাম যে সামনে বিপিএল আছে। এটাকেই (বিপিএল) সুন্দরভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতাম। ক্রিকেটাররা সবাই পেশাদার। তাদের এই মুহূর্তে বিপিএল নিয়ে চিন্তা করা উচিত। যেহেতু টুর্নামেন্ট একেবারে শেষের দিকে চলে এসেছে। এ সময় দলগুলোর পারফরম্যান্স ম্যাচের ফলে প্রভাব রাখবে। আমার মনে হয় তারা খেলা নিয়ে চিন্তা করছে। তারপরও দেখা যাক আমাদের কী হয়।’
মুম্বাই ও কলকাতার পরিবর্তে চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে পারে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ভেন্যু নিয়ে চলমান আলোচনা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সে বিষয়ে সুমনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আশা করি না (বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলা)। কারণ, এই জিনিসটা তো আমাদের হাতে নেই। ক্রিকেটারদের হাতেও অবশ্যই নেই। সংবাদগুলো অবশ্যই এড়ানো যায় না। আলোচনা তো হয়। ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমরা যখন খেলার বাইরে থাকি, তখন ক্রিকেট নিয়ে আলাপ করি। তাদের বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ করি। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।’
সূচি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপ শুরু করার কথা বাংলাদেশের। একই মাঠে ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে বিসিবি ইতোমধ্যে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটারদের জন্য সুমনের পরামর্শ একেবারে পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সেটা (বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন) নিয়ে চিন্তা করি, সেটা নিয়ে অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে সেটা ভালো হবে না। যা-ই ঘটুক, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাজ ক্রিকেট খেলা। যেটাই হোক, সেটা তো ক্রিকেটারদের হাতে নেই। তাদের শুধু এটা চিন্তা করা উচিত যখন খেলব, ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করব। সেটাতেই ভালো করার চেষ্টা করব।’










Discussion about this post