ফুটবল বিশ্বের গৌরব, আবেগ ও স্বপ্নের প্রতীক ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আবারও পা রাখল বাংলাদেশে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আয়োজিত বিশ্বব্যাপী ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে আজ সকালে ট্রফিটি ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বরণ শেষে এটি নেওয়া হয় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে। সফরের শুরুতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
দুপুর গড়াতেই রেডিসন ব্লু হোটেলে শুরু হয় ট্রফি প্রদর্শনের আয়োজন। তবে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা, ফুটবল অঙ্গনের নির্বাচিত ব্যক্তিত্ব এবং ফিফার স্পন্সর কোকা-কোলার বিশেষ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীরাই কেবল এই ঐতিহাসিক ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।
কোকা-কোলাই দীর্ঘদিন ধরে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরের আয়োজক হিসেবে বিশ্বের নানা দেশে এই প্রদর্শনী আয়োজন করে আসছে।
বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির আগমন নতুন নয়, তবে প্রতিবারই এর তাৎপর্য আলাদা। ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের সময় প্রথমবার বাংলাদেশে আসে ট্রফিটি। এরপর ২০১৩ ও ২০২২ সালে আরও দুইবার ঢাকায় প্রদর্শিত হয় ফুটবলের এই মহামূল্যবান স্মারক। আজকের আগমন নিয়ে মোট চারবার বাংলাদেশে এল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, যা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায়।
চলমান ট্রফি ট্যুরটির যাত্রা শুরু হয়েছে গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে। ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসা এই সফর মোট ১৫০ দিন ধরে চলবে। বিশ্বের ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যু ঘুরে শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি পৌঁছাবে মেক্সিকোতে, যেখানে আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ।
বাংলাদেশ পর্ব শেষে ট্রফির গন্তব্য এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান। এরপর আফ্রিকা ও ইউরোপ পেরিয়ে উত্তর আমেরিকার তিন আয়োজক দেশে গিয়ে এই ঐতিহাসিক সফরের সমাপ্তি ঘটবে।
ট্রফিটি আসল কি না-এই প্রশ্ন ফুটবলভক্তদের মনে বারবার আসে। ফিফার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ট্যুরে প্রদর্শিত ট্রফিটি সম্পূর্ণ আসল এবং নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। বিশ্বকাপ জয়ী দল বিজয় উদযাপনের সময় এই আসল ট্রফিই হাতে তোলে, তবে স্থায়ীভাবে তাদের দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি রেপ্লিকা ট্রফি।
এবারের ট্রফি ট্যুরে ট্রফির সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। অতীতে ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ।
প্রদর্শনী ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম মানা হচ্ছে। বৈধ টিকিট ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই, ট্রফি স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যাকপ্যাক বহন, ধূমপান, ধারালো বা নিষিদ্ধ বস্তু সঙ্গে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে প্রদর্শনী এলাকায় কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতিও নেই।










Discussion about this post