ইন্টারন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি লিগের ফাইনালটা সাকিব আল হাসানের জন্য ছিল আশা আর আক্ষেপের মিশেল। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত ডেজার্ট ভাইপারসের কাছে ৪৬ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এমআই এমিরেটসকে। সাকিবের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
টস জিতে এমিরেটস প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং নতুন বল তুলে দেওয়া হয় সাকিবের হাতে। প্রথম ওভারেই ম্যাচের সুরটা খানিকটা ভাইপারসের পক্ষে চলে যায়। দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হজম করেন তিনি, পুরো ওভারে দেন ১০ রান। এরপর আর বোলিংয়ে ফেরানো হয়নি তাকে। শুরুতে ফজল হক ফারুকীর জোড়া আঘাতে ভাইপারস ধাক্কা খেলেও সাকিবের ওভারের সেই চাপমুক্ত শুরু তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে।
ম্যাক্স হোল্ডেন ও স্যাম কারেন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। দুজনের ৮৯ রানের জুটিতে ভিত পায় ভাইপারসের ইনিংস। পরে ড্যান লরেন্সকে সঙ্গে নিয়ে কারেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অধিনায়কের দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ভাইপারস তোলে ৪ উইকেটে ১৮২ রান, যা ফাইনালের মঞ্চে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় এমিরেটসের সামনে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে এমিরেটস। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকা ইনিংসে অষ্টম ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৫৪ রান, ততক্ষণে চার ব্যাটার প্যাভিলিয়নে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচে ফেরার দায়িত্ব এসে পড়ে সাকিব আল হাসানের কাঁধে। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার কিয়েরন পোলার্ডকে নিয়ে ধীরে ধীরে লড়াইয়ের ছক কষেন।
সাকিব ব্যাটিংয়ে ছিলেন সংযত ও দায়িত্বশীল। ঝুঁকি কম নিয়ে স্ট্রাইক ঘুরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। ২৭ বলের ইনিংসে তিনটি চার মেরে করেন ৩৬ রান। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান রেট যখন দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন বড় শট খেলাই ছিল একমাত্র পথ। ১৬তম ওভারে লং অন দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যত শেষ হয়ে যায় এমিরেটসের জয়ের সম্ভাবনা।
সাকিবের ৩৬ রানই ছিল দলের সর্বোচ্চ। তার পরেই পোলার্ড ২৮ রান করে আউট হন। শেষ দিকে ভাইপারসের বোলাররা নির্মম হয়ে ওঠেন। নাসিম শাহ তিন উইকেট নিয়ে শুরু করেন ধস, আর ডেভিড পেইন এক ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের শেষ অধ্যায়ে সিল মেরে দেন। ১৮.৩ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয় এমিরেটস।
দুইবার ফাইনালে হারের পর তৃতীয়বারে স্বপ্ন পূরণ করে ডেজার্ট ভাইপারস। স্যাম কারেনের নেতৃত্ব ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাদের এনে দেয় আইএল টি-টোয়েন্টির প্রথম শিরোপা। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতা ও লড়াই থাকলেও ফাইনালের মঞ্চে আরেকটি ট্রফি অধরা থেকেই গেল।










Discussion about this post