দুর্দান্ত বোলিং ও চাপ সামলে শেষ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্সে ঢাকা ক্যাপিটালসকে পাঁচ রানে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রংপুর শুরুতেই বিপদে পড়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে দলটি মাত্র ৩১ রান তোলে, যা ম্যাচের শুরুতে তাদেরকে বেশ চাপে ফেলে দেয়।
সেই কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রংপুরকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ডেভিড মালান। দুজনের জুটিতে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় দল। ১০.১ ওভারে আসে দলীয় পঞ্চাশ, আর ১৪.১ ওভারে পার হয় শতরান। তবে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে মালান ফিরলে আবারও চাপ বাড়ে রংপুরের ওপর। এরপর খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ। ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, যা ছিল বিপিএলে তার ১৫তম অর্ধশতক। তবে হাফ সেঞ্চুরির পরপরই তাসকিন আহমেদের বলে আউট হয়ে যান তিনি। ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
শেষদিকে খুশদিল শাহ ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রংপুরের পুঁজি বাড়ান। শেষ ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে পৌঁছে দেন ১৫৫ রানে। ২১ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে রংপুর রাইডার্স।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান তুলে নেয় দলটি। তবে সপ্তম ওভারে কাইল মেয়ার্সের বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজ আউট হলে প্রথম ধাক্কা খায় ঢাকা। ২২ বলে ৩১ রান করেন তিনি। অষ্টম ওভারে আব্দুল্লাহ আল মামুনও ফিরে গেলে কিছুটা থমকে যায় ইনিংস। ১৮ বলে ২০ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান খুশদিল শাহ।
এরপর মোহাম্মদ মিঠুন ও সাইফ হাসানের ব্যাটে আবারও এগিয়ে যেতে থাকে ঢাকা। ১৩.২ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ হয়। এই দুজনের ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন আলিস আল ইসলাম। চাপের মধ্যেও মিঠুন দায়িত্বশীল ও আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৬ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে শামীম পাটোয়ারী দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে পড়ে ঢাকার জন্য। সাব্বির রহমান শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকলেও প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেননি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১০ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের করা সেই ওভারে প্রথম পাঁচ বলে আসে মাত্র তিন রান। শেষ বলে সাত রান প্রয়োজন হলেও সাব্বির নিতে পারেন কেবল দুই রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫০-এর কিছু বেশি।
শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে নেওয়া মুস্তাফিজের বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্স ম্যাচটি জিতে নেয় পাঁচ রানে। সময়মতো ব্যাটিংয়ের গতি বাড়াতে না পারার খেসারত দিতে হয় ঢাকা ক্যাপিটালসকে, আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দৃঢ়তায় ম্যাচ নিজেদের করে নেয় রংপুর।










Discussion about this post