জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলছে হতাশার আবহ। এমন এক সময়ে এই পরাজয় এসেছে, যখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মাঠের বাজে পারফরম্যান্সে ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশাও যেন আরও বেড়েছে।
তবে এই ম্যাচটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। একই কারণে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে বিশ্রামও দেওয়া হয়েছিল। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ এই ম্যাচে খেলেননি। অন্যদিকে চোটের কারণে দলে ছিলেন না নিয়মিত উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। সেই সুযোগে টেস্ট অভিষেক হয় তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসানের।
এত পরিবর্তনের পরও দলকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তার ভাষায়, ‘ওয়ানডেতে আমরা কোনো পরিবর্তন করিনি। টেস্টেও তো খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। ব্যাটিং আগের মতোই আছে। নিয়মিত ব্যাটারদের মধ্যে শুধু লিটন ইঞ্জুরির কারণে খেলতে পারেনি।’
পেস আক্রমণে পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বাশারের মতে, সব ম্যাচে একই বোলারদের খেলানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বোলিংয়ে একটা ব্যাপার ছিল, তাসকিন-রানাকে সব টেস্ট খেলাতে পারব না। যে বোলাররা খেলেছে তারা স্কোয়াডেরই অংশ। এবাদত, নাঈম, খালেদ ওরা টেস্ট স্কোয়াডেরই অংশ, সবসময় টেস্ট খেলে। খুব বেশি নতুন খেলোয়াড় টেস্টেও ট্রাই করা হয়নি।’
হারারে টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতাই বাংলাদেশের বড় সর্বনাশ ডেকে আনে। দুই ইনিংসেই ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আড়াই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়, আর ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
দল নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রধান নির্বাচকের বক্তব্য স্পষ্ট-এটি ছিল না কোনো পরীক্ষামূলক একাদশ। তার দাবি, চোট ও কাজের চাপ সামলে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একাদশ সাজানো হয়েছিল, আর মাঠে নামা ক্রিকেটাররাও দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের টেস্ট পরিকল্পনার অংশ।









Discussion about this post