জাতীয় দলে খেলেন, দেশের জন্য লড়েন, গ্যালারিতে ওঠে উন্মাদনা-তবু আর্থিক নিরাপত্তা ছিল না নিশ্চিত। সেই বাস্তবতায় বদলের বার্তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় দলের পুরুষ ও নারী ফুটবলারদের মাসিক ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। হামজা চৌধুরীদের মতো তারকারাও নিয়মিত সরকারি বেতন পাবেন।
আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা যখন আমাদের এই ফুটবলারদেরকে বেতন কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমাদের তৃণমূল থেকে শুরু করে যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুটবল দলে খেলতে চায়, তারা অনেক বেশি উৎসাহিত হবে। তারা আগ্রহ প্রকাশ করবে এই ভেবে যে ‘বাংলাদেশ দলে খেললেই সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিভিত্তিক যে বেতন কাঠামোর ভেতরে আমাদের নিয়ে আসা হবে’। এটি অনেক বেশি উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
বর্তমানে নারী ফুটবলাররা বাফুফের মাসিক চুক্তির আওতায় থাকলেও পুরুষ ফুটবলারদের ক্ষেত্রে নেই নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো। জাতীয় দলের ক্যাম্পে অংশ নিলে তারা পান সীমিত ভাতা, ম্যাচ ফিও নেই। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেয়েদের ফুটবলাররা যেভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরও প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পুরুষ ও নারী উভয় দলের ফুটবলারদের মাসিক ভিত্তিতে সরকারি চুক্তির আওতায় এনে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও এসেছে সিদ্ধান্ত। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ফিফার অনুদানের আওতায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কয়েকটি মাঠ ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে তিনটি মাঠ আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম- এই তিনটি ভেন্যুই চুক্তির ভিত্তিতে বাফুফের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’
এ ছাড়া বয়সভিত্তিক ফুটবলকে ধারাবাহিক রাখতে বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে এরই মধ্যে ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে একটি ক্যালেন্ডার চেয়েছি। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে একটি বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো আমরা করব। বিশেষ করে গত অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি যে, আমাদের জেলা পর্যায়ে লিগগুলো হয় না। যদিও গত বছর থেকে আমাদের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সেটাকে আমরা স্থায়ীভাবে প্রত্যেক জেলায় জেলায় লিগ চালাতে চাই। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’










Discussion about this post