বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাকিব আল হাসান। পাকিস্তান সিরিজকে ঘিরে তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তব রূপ পায়নি। আইনি জটিলতার কারণে দেশে ফিরতে না পারায় জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি ঝুলে থাকে। সিরিজ শেষে সেই অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি, বরং প্রশ্ন থেকেই গেছে, কবে ফিরবেন দেশের সেরা অলরাউন্ডার।
যদিও সাকিব নিজেই এপ্রিলের নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন, তবুও বিসিবি এ ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রস্তুতি ছাড়া দলে ফেরানো হবে না কাউকেই, সাকিব হলেও না।
আজ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সাকিবের এখনও ২ বছর খেলার বাকি। সাকিব প্রস্তুত হয়েই দলে আসবে আসলে। সাকিবের সার্ভিস পেলে দল উপকৃত হবে যদি আসে। সাকিব কাল এসে পরশু তো খেলতে পারবে না, এটা ইমোশনের জায়গা না। সাকিবের সার্ভিস পেলে লম্বা সময়ের জন্যই চাইবো।’
সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণে শুধু মূল একাদশ নয়, বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়েও পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এ প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘ফোকাস থাকবে সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা, অনেক খেলা। খারাপ দিয়ে খারাপ রিপ্লেস না করে, সবাই যাতে ভালো করে। যে ১৫ জন আছে তার বাইরে একটা গ্রুপ রেডি করতে হবে।’
নতুন প্রধান নির্বাচকের ভাবনায় সাকিব শুধু একটি সিরিজের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাকে অন্তত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, তার অভিজ্ঞতা এবং অলরাউন্ড দক্ষতা এখনো দলের জন্য বড় সম্পদ।
তবে মাঠের বাইরের বাস্তবতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিক মামলার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। নিরাপত্তা শঙ্কায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট খেলার সুযোগও হাতছাড়া হয় তার। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসায় সাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিসিবির আইনি দল এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সমাধানে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর, আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি এবং মাঠে ফেরার মতো প্রস্তুতি।










Discussion about this post