বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। বছরের পর বছর ধরে এই একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করেই আইসিসির বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বড় অংশ সাজানো হয়। অথচ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সেই ভিত্তিতেই বড় ধাক্কা দেওয়ার পথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
বহুল আলোচিত এই ম্যাচটি না হলে আইসিসি থেকে শুরু করে স্বাগতিক, সম্প্রচারকারী এবং সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আর্থিক হিসাব বলছে, ভারতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের গড় বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ১০ থেকে ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়। ফলে একটি ম্যাচ বাতিল হলেই আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০০ কোটি রুপির বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষতির প্রভাব শুধু সম্প্রচারকারী সংস্থা কিংবা স্পনসরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো টুর্নামেন্টের অর্থনৈতিক কাঠামোই চাপে পড়তে পারে। বিশ্বকাপের বাজেট পরিকল্পনায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে যে রাজস্ব ধরা হয়, সেটি বাদ পড়লে আইসিসির জন্য ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শুরুতে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, প্রতিযোগিতামূলক দিক থেকেও মূল্য দিতে হবে। ওই ম্যাচের দুই পয়েন্ট পাবে ভারত। আইসিসির ১৬.১০.৭ ধারা অনুযায়ী, ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের নেট রানরেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যদিও ভারতের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রভাব থাকবে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে পাকিস্তান তখন কী সিদ্ধান্ত নেবে।
আর্থিক দিক থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ঝুঁকি আরও বড়। ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট রেভস্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি না খেললেই পিসিবির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬৭ কোটি টাকা। এর বাইরে আইসিসি চাইলে পিসিবির জন্য বরাদ্দ বার্ষিক রাজস্বের অংশও স্থগিত করতে পারে।










Discussion about this post