আহমেদাবাদের গ্যালারিতে তখন উৎসবের আবহ। ব্যাট হাতে শুরুতে ঝড়, পরে বল হাতে শাসন—সব মিলিয়ে একেবারেই একতরফা ফাইনাল উপহার দিল ভারত। নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার শিরোপা ধরে রাখার নজির গড়ার পাশাপাশি তৃতীয়বারের মতো ট্রফি নিজেদের করে নিল ভারত। ৯৬ রানের জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা!
ফাইনালে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে সেই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই বুমেরাং হয়ে যায়। প্রথম দুই ওভার দেখে খেললেও এরপর থেকেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতের ওপেনাররা। চার–ছক্কার ঝড়ে মাত্র ছয় ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান তুলে নেয় ভারত।
মাত্র ১৮ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন অভিষেক শর্মা। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে ৫১ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ইশান কিষাণকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সঞ্জু স্যামসন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ফিফটি পার করার পর সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৮৯ রানে থামেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও আটটি ছক্কা।
ইশান কিষাণও ঝড়ো ব্যাটিং করে মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা। তবে দলনেতা সূর্যকুমার যাদব প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ১৮ রান করেন। শেষদিকে শিবম দুবে মাত্র আট বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিলক ভার্মা ৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে তিনটি উইকেট নেন জেমস নিশাম। এছাড়া ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র একটি করে উইকেট শিকার করেন।
পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। কিছুক্ষণ পর আউট হন মার্ক চ্যাপম্যানও।
এরপর ওপেনার টিম সেইফার্ট ২৬ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তা ম্যাচে ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ড্যারেল মিচেল করেন ১৭ রান। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করে লড়াই চালিয়ে যান।
তবে অন্য ব্যাটাররা বড় অবদান রাখতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার মেনে নেয় নিউজিল্যান্ড। জেমস নিশাম ৮, ম্যাট হেনরি শূন্য, লকি ফার্গুসন ২ ও জ্যাকব ডাফি ১ রান করেন।
ফলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখে ভারত। এর আগে ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর ২০২৬ সালেও আইসিসির বড় শিরোপা নিজেদের দখলে রাখল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, ঈশান ৫৪, অভিষেক ৫২, শিবম ২৬*, পান্ডিয়া ১৮; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২, হেনরি ১/৪৯)।
নিউজিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সাইফার্ট ৫২, স্যান্টনার ৪৩, মিচেল ১৭; বুমরা ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭, পান্ডিয়া ১/৩৬)।
ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: যশপ্রীত বুমরা।
সিরিজসেরা: সঞ্জু স্যামসন।









Discussion about this post