পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের তৃপ্তি নিয়ে ঈদের ছুটিতে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। তবে মাঠের এই সাফল্যের বিপরীতে প্রশাসনিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। ঈদের পরপরই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন সিরিজ সামনে থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘিরে নানা সংশয় ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।
গত অক্টোবরে নির্বাচিত বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ চার বছর হলেও বাস্তবে তারা শুরু থেকেই অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদ গত কয়েক মাসে কার্যত চাপের মধ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কা, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা এবং সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে, এই শঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মাঠের ক্রিকেট যেন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। বিসিবির তত্ত্বাবধানে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) চললেও ক্লাব ক্রিকেট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এতে করে পেশাদার ক্রিকেটারদের আয়ের পথ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা খেলা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও কিছু সংগঠকের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণেই ক্লাব ক্রিকেট শুরু করা যাচ্ছে না।
এদিকে প্রশাসনিক অঙ্গনে ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবং তাঁর সমমনা সংগঠকেরা ইতোমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে তৎপরতা এবং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে বর্তমান বোর্ডও চেষ্টা করছে যেন সরকারি পর্যায় থেকে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত না আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেখা গিয়েছিল। পাকিস্তান সিরিজ চলাকালে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের মাঠে উপস্থিতি এবং পুরস্কার বিতরণীতে অংশগ্রহণকে অনেকেই বোর্ড ও সরকারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছিলেন। তবে সেই ধারণা স্থায়ী হয়নি।
কারণ, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনএসসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এই পদক্ষেপ নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিসিবি ইতোমধ্যে বিষয়টি আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করা যায়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো পদক্ষেপের বিষয়েও তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে আইসিসির আসন্ন সভায় বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে। ঈদের পর দেশে ফিরে বোর্ড সভাপতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করতে পারেন, যেখানে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।










Discussion about this post