বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেসার জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাবেক পেসার ও কোচ মঞ্জুরুল ইসলামকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের নারী বিভাগের প্রধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য রুবাবা দৌলা মনে করেন, মঞ্জুর বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি যথেষ্ট কঠোর এবং এই মুহূর্তে আর কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না বিসিবি।
গত রোববার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে জানানো হয়, তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে মঞ্জুকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে বুধবার বিসিবিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুবাবা দৌলা জানান, আইনি দিক পর্যালোচনা করেই বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রুবাবা দৌলার ভাষ্য অনুযায়ী, বোর্ড লিগ্যাল ফিডব্যাক নিয়েছে এবং আইনগতভাবে বিসিবির কী অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে, তা মূল্যায়ন করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, করপোরেট পর্যায়ে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে যেমন কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, বিসিবিও তেমনভাবেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তার বিশ্বাস, সব ধরনের ক্রিকেট নারী ও পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই-মঞ্জুকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি কঠোর শাস্তি।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এত স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মঞ্জুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন বলে জানা গেছে, ফলে এই নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবি জানায়, জাহানারার করা যৌন হয়রানির চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। সেই প্রেক্ষিতেই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ তোলার দুই দিন পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, পরে সেখানে আরও দুজন সদস্য যুক্ত হন। কমিটি গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত জাহানারা আলম এখনও এই শাস্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু বিষয় খতিয়ে দেখে পরে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
গত নভেম্বর ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমেরইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ চলাকালে তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জু তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণের মুখে পড়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও তোলেন, যিনি একসময় সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি। সে সময় নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরিকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন জাহানারা। এমনকি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন ৩২ বছর বয়সী এই পেসার।
মঞ্জুর বিরুদ্ধে বিসিবির শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও বোর্ড বলছে, আইনগত সীমার মধ্যেই কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবুও আইনি প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থামেনি।










Discussion about this post