পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বাংলাদেশি লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। গত আসরে শিরোপাজয়ী লাহোর কালান্দার্সের হয়ে সফল সময় কাটালেও এবার তাকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নিলামে লাহোর তার জন্য কোনো আগ্রহ না দেখালেও শেষ পর্যন্ত ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে রিশাদকে দলে ভেড়ায় টিম রাওয়ালপিন্ডি।
আজ বুধবার লাহোরে অনুষ্ঠিত নিলাম শুরু হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায়। এবারের আসরের জন্য ৯০৩ জন ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করেন, যার মধ্যে ৫৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। নিলামে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথমে ডাকা হয় মেহেদী হাসান মিরাজের নাম, তবে তিনি কোনো দল পাননি।
পরে রিশাদের নাম উঠলে তাকে দলে নিতে শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথম বিড করে রাওয়ালপিন্ডি, এরপর করাচি কিংসও দর হাঁকায়। বেশ কিছুক্ষণ প্রতিযোগিতার পর করাচি সরে দাঁড়ালে ৩ কোটি রুপিতে রিশাদকে নিশ্চিত করে রাওয়ালপিন্ডি।
রিশাদের ভিত্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ রুপি। এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের আরও ২২ জন ক্রিকেটার ছিলেন। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ২ কোটি ২০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যে ছিলেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও জাকির হাসান। তবে নিলামে দামের বিচারে বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক দেখান রিশাদই।
গত মৌসুমে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার ইকোনমি ছিল ৯.৩৩। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রথমবার ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েই এমন পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাড়তি পরিচিতি এনে দেয়।
এবারের পিএসএলে পরিবর্তন এসেছে দলীয় কাঠামোয়ও। মুলতান সুলতান্স নামটি থাকছে না নতুন আসরে। দলটি কিনে নিয়েছে ওয়ালি টেকনোলজিস, আর মালিকানা বদলের সঙ্গে বদলেছে নামও-নতুন পরিচয় টিম রাওয়ালপিন্ডি। নতুন রূপে যাত্রা শুরু করা দলটি স্কোয়াড গঠনের শুরুতেই রিশাদের মতো উদীয়মান স্পিনারকে দলে নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে।










Discussion about this post