জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনের খেলা রঙিন হয়ে উঠল তিন ভেন্যুতে তিন রকমের পারফরম্যান্সে। রাজশাহীতে সানজামুল ইসলামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, বগুড়ায় রবিউল হকের পাঁচ উইকেট আর চট্টগ্রামে আইচ মোল্লা–শুভাগত হোমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং, সব মিলিয়ে ব্যস্ত দিন কাটল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেওয়া দলগুলোর।
রাজশাহীতে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এমন সময়ে দলের হাল ধরেন সানজামুল ইসলাম। তিন নম্বরে নেমে প্রায় একাই ইনিংসের ভার তুলে নেন তিনি।
বাকি ব্যাটাররা যেখানে উইকেট ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছেন, সেখানে সানজামুল খেলেছেন ১১২ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর দ্বিতীয় শতক এটি; দীর্ঘ ১১ বছর পর আবার তিন অঙ্কে পৌঁছালেন এই স্পিন অলরাউন্ডার। দিনের শেষে রাজশাহী থামে ৯ উইকেটে ২৭৫ রানে। সাব্বির রহমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। ঢাকার অফ স্পিনার আশরাফুল ইসলাম ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বল হাতে সবচেয়ে আলো ছড়িয়েছেন রংপুরের পেসার রবিউল হক। বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপ তার নিয়ন্ত্রিত লাইন–লেংথে ভেঙে পড়ে ১৯৬ রানে। রবিউল ১১.৪ ওভারে ৫ মেডেনসহ মাত্র ২৫ রান দিয়ে তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। বরিশালের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েছেন ফজলে রাব্বি, যিনি করেছেন ৮০ রান। তার পর আর কেউ উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ করতে পারেননি, ৩০ রানের দেখা পায়নি দলের বাকি ব্যাটাররা। মুকিদুল ইসলামও রংপুরের হয়ে সহায়তা করেন ৩ উইকেট নিয়ে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরও ভালো শুরু পায়নি-দুই ওপেনারকে হারিয়ে ৪৩ রানে দিন শেষ করেছে তারা। দ্বিতীয় দিন নবীন ইসলাম (২১*) ও নাঈম ইসলাম (৬*) নতুন শুরু করতে নামবেন।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের ব্যাটিংয়ে শুরুতে বিপর্যয় নেমে এলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান আইচ মোল্লা ও অধিনায়ক শুভাগত হোম। ১০৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর তারা দুজন গড়েন ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। আইচ খেলেন ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস, শুভাগত করেন ৫৪। দুজনকেই থামান অফ স্পিনার নাঈম হাসান, যিনি দিনশেষে শিকার করেছেন ৩ উইকেট। প্রথম দিন ৮ উইকেটে ২৭১ রান তুলে মাঠ ছাড়ে ময়মনসিংহ।










Discussion about this post