মেসির ১৩ মিলিয়ন ডলার কর পরিশোধ
কর ফাকির মামলায় আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে এখন বেশ জটিলতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। হরহামেশা যোগাযোগ করতে হচ্ছে তার ইনকাম ট্যাক্স আইনজীবীদের সঙ্গে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে তিনি বেআইনিভাবে তার ইমেজ রাইটস বিক্রি করে যে অর্থ পেয়েছিলেন তার কর পরিশোধ করেননি। অঙ্কটা কম নয়, প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার। কর ফাকির এ মামলায় স্পেনের একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আগামি ১৭ সেপ্টেম্বর মেসি ও তার বাবা হোর্হে মেসিকে স্পেনের একটি আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মেসি তার ২০১০ ও ২০১১ সালের আয়কর পরিশোধ করলেন। কালই স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের কাছে দুই বছরের কর বাবদ ১৩ মিলিয়ন ডলার জমা দিয়েছেন মেসি। একই সঙ্গে মেসি তার ৫ মিলিয়ন ডলার কর ফাকির বিষয়টি মিটিয়ে নিতেও উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্প্যানিশ মিডিয়া জানিয়েছে, দুই বছরের কর পরিশোধ করার পর মেসির আইনজীবীরা জানিয়েছেন তাদের মক্কেল স্পেন কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে আগ্রহী। তারা জানান, যদি সত্যিই কর বাকি থাকে তাহলে মেসি সে অর্থ মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু তাদের জানা মতে, মেসি স্পেনের আইন অনুযায়ী নিয়মিত কর পরিশোধ করেছেন। কিছু ঘটে থাকলে তার অজান্তেই ঘটেছে। কারণ খেলার মাঠে ব্যস্ত মেসির আর্থিক দিক দেখাশোনার জন্য সময় কোথায়? এ দায়িত্ব তিনি দিয়ে রেখেছেন তার ল’ ফার্মকেই। বলা দরকার ৫ মিলিয়ন ডলারের এ কর পরিশোধ না করলে এবং মেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ হলে তাকে ছয় বছর জেল খাটতে হবে। পাশাপাশি গুনতে হবে বিপুল অঙ্কের জরিমানা।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মেসি বিশ্বের দশম ধনী খেলোয়াড়। চলতি বছর তার আয় দাড়িয়েছে ৪১.৩ মিলিয়ন ডলার। তার মধ্যে ২০.৩ মিলিয়ন ডলার ক্লাবের কাছ থেকে পাওয়া তার বেতন বাবদ এবং বাকি ২১ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন এনডোর্সমেন্ট থেকে। স্পেনে কর আইন ভীষণ কড়া। গত বছর পর্তুগালের সাবেক মেগাতারকা লুইস ফিগোকে প্রায় আড়াই মিলিয়ন ইউরো কর পরিশোধ করতে হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বার্সেলোনায় খেলার সময় ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইমেজ রাইটস বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। মিলিয়ন ডলার ইউরো কর শোধ করতে হয়েছিল স্পেনের সাবেক মহিলা টেনিস তারকা আরাঞ্চা সানচেজ ভিকারিওকেও।



