পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নতুন মৌসুমের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বড় একটি তালিকা থাকলেও সাফল্যের খাতায় নাম তুলতে পেরেছেন মাত্র একজন। ৫০ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার এবারের নিলামে নাম দিলেও দল পেয়েছেন কেবল রিশাদ হোসেন। নিলামের আগে অবশ্য সরাসরি চুক্তিতে লাহোর কালান্দার্স দলে ভেড়ায় মুস্তাফিজুর রহমানকে।
রিশাদকে দলে নিয়েছে টিম রাওয়ালপিন্ডি, যা পূর্বে মুলতান সুলতান্স নামে পরিচিত ছিল। তার চুক্তির মূল্য ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপি। পিএসএলের সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোর তুলনায় এটি মাঝারি অঙ্ক হলেও একজন উদীয়মান বিদেশি স্পিনারের জন্য তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিলাম শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশিদের প্রতি তেমন আগ্রহ না দেখালেও রিশাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
অন্যদিকে লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, তাওহিদ হৃদয়, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিম হাসান সাকিব এবং সাকিব আল হাসান—কেউই দল পাননি। বড় সংখ্যায় নাম থাকলেও দল না পাওয়ার এই চিত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য হতাশার।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত নাম মুস্তাফিজুর রহমান অবশ্য নিলামের অপেক্ষায় ছিলেন না। লাহোর কালান্দার্স তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নেয় ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ মৌসুমে লাহোরের হয়ে খেলেছেন তিনি। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিলেও পরবর্তীতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় সেই চুক্তি বাতিল হয়, এরপরই পিএসএলে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
সর্বশেষ আসরে লাহোর কালান্দার্সে ছিলেন রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। এবার দলে নেই রিশাদ; তিনি খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে, আর লাহোরের আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন মুস্তাফিজ।
এবারের নিলামে বড় অঙ্কে বিক্রি হয়েছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ, যাকে সাড়ে ৮ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। সেই তুলনায় রিশাদের ৩ কোটি রুপির চুক্তি মাঝারি হলেও তার প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজির আস্থা স্পষ্ট।
আগামী ২৬ মার্চ শুরু হয়ে ৩ মে পর্যন্ত চলবে পিএসএলের এবারের আসর। বাংলাদেশি সমর্থকদের দৃষ্টি থাকবে মূলত মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্সের দিকে।










Discussion about this post