রংপুর বিভাগ জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের ড্র হওয়ায়। খুলনাকে একদিন বাকি থাকতে ৭ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেলেও শিরোপা নিশ্চিত হওয়া বাকি ছিল হিসাব-নিকাশের কারণে।
সিলেট যদি বরিশালকে হারাতে পারত, তবে রংপুরকে ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হতো তারা। কিন্তু রাজশাহীতে বরিশাল–সিলেট ম্যাচ ড্র হওয়ায় ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর, আর ২৮ পয়েন্ট নিয়ে রানার-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো গতবারের চ্যাম্পিয়ন সিলেটকে।
আজ বরিশাল শেষ রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে দাপট দেখালেও জয়ের লক্ষ্য ৩২০ রানের পেছনে ছুটে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৭ রানে থামে সিলেটের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম করেন ৫৩ এবং আসাদুল্লাহ আল গালিব করেন ৬১ রান। বরিশালের হয়ে অধিনায়ক তানভীর ইসলাম ও মইন খান নেন দুটি করে উইকেট। ম্যাচ ড্র করে সিলেটের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নষ্ট করলেও বরিশাল নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারেনি; ৭ ম্যাচে ২ জয়, ৩ হার ও ২ ড্র নিয়ে ২০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা আসর শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে, খুলনা ২২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে চারে।
নবাগত ময়মনসিংহ শেষ রাউন্ডে শিরোপার লড়াইয়ে থাকলেও রাজশাহীর বিপক্ষে দুর্বল ব্যাটিংয়ে ভর করে ১৪৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায়। ৪২৮ রানের তাড়া করতে নেমে তারা থামে ২৮১ রানে। আবু হায়দার রনি ১২৭ বলে ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। রাজশাহীর বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট শিকার করেন।
২৪ পয়েন্ট পাওয়া ময়মনসিংহ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েও দ্বিতীয় রানার-আপ হয়ে টুর্নামেন্টে চমক দেখিয়েছে, বিপরীতে রাজশাহী ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে।
চট্টগ্রাম (১৯ পয়েন্ট) ষষ্ঠ এবং ঢাকা (১৯ পয়েন্ট) সপ্তম স্থানে রয়েছে। ঢাকার ১ জয়, ৫ ড্র ও মাত্র ১ হার তাদের সাতে নামিয়ে রেখেছে। সিলেটই একমাত্র দল যারা কোনো ম্যাচ হারেনি; তবুও ড্র বেশি হওয়ায় তারা শিরোপার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে। অন্যদিকে রংপুর তিনটি জয়, একটি হার এবং তিনটি ড্র নিয়ে সবার ওপরে থেকে আসর শেষ করেছে।
গত অক্টোবরে এনসিএলের টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও আকবর আলীর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রংপুর। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে চারদিনের ক্রিকেটেও শিরোপা জিতে তারা পূর্ণাঙ্গ ‘ডাবল’ অর্জন করেছে। গত বছর রংপুরের ড্র সিলেটকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল; এবার উল্টো সিলেটের ড্র রংপুরকে শিরোপা উপহার দিল।



