বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের উত্থাপিত যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও তা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। প্রায় দুই মাস পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেও অভিযোগকারী হিসেবে জাহানারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ফল জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাহানারার নিযুক্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিসিবি তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে জাহানারাকে সরাসরি কিছু জানানো হয়নি। এমনকি প্রতিবেদনটির কোনো কপিও তাকে সরবরাহ করা হয়নি। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের গোপনীয়তা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তদন্তের ফলাফলে জাহানারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্বচ্ছতার অভাবে তিনি হতাশ।
মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানির পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে তাদের লিগ্যাল টিম পর্যালোচনা করছে। তবে আদৌ জাহানারা এই প্রতিবেদন পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ৮ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। প্রথমে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ ডিসেম্বর করা হয়। একাধিক দফা বিলম্বের পর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবির কাছে জমা পড়ে।
৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, জাহানারা আলমের করা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কোন দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের তথ্যগত ভিত্তি পাওয়া গেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়টিও জাহানারার পক্ষ থেকে অসন্তোষের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিসিবি দাবি করেছে, তদন্ত কমিটি জাহানারার অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং বোর্ডের নিজস্ব উদ্যোগে গঠন করা হয়েছিল। তবে জাহানারা আলম এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, তার করা যৌন হয়রানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্তের জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘হয়রানি’র পর্যায়ে পড়ে। প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।










Discussion about this post